ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভারতে ব্যক্তিগত পরিসরে নামাজেও বাধা: উত্তর প্রদেশে আটক ১২, আইনজীবীদের উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে ব্যক্তিগত পরিসরে নামাজেও বাধা: উত্তর প্রদেশে আটক ১২, আইনজীবীদের উদ্বেগ


ভারতের উত্তর প্রদেশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থানে বা বাড়িতে সমবেত হয়ে নামাজ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের আটক ও আইনি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বেরেলি জেলায় একটি খালি বাড়িতে জুমার নামাজ আদায়ের দায়ে অন্তত ১২ জন মুসলিমকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেরেলি জেলার একটি গ্রামে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ফাঁকা বাড়িতে জুমার নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে গত ১৮ জানুয়ারি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। বাড়িওয়ালার অনুমতি এবং স্থানীয়ভাবে বিকল্প জায়গার অভাব থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ১২ জনকে আটক করে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নিয়মিত সেখানে লোক সমাগম হওয়ায় শান্তি রক্ষার স্বার্থে এই ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র ১৭০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সাধারণত কোনো গুরুতর অপরাধ সংগঠনের আশঙ্কা থাকলে বিনা পরোয়ানায় আটকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

তবে এই আইনি পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের শীর্ষ আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, “ভারতীয় আইনে নামাজ বা প্রার্থনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কোনো বিধান নেই। যদি মালিক কোনো নিয়ম ভঙ্গও করে থাকেন, তবে তা বড়জোর দেওয়ানি অপরাধ বা জরিমানা হতে পারে, কিন্তু ফৌজদারি দণ্ড বা কারাবাস কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।”

অন্যদিকে, প্রখ্যাত আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ধর্ম পালন প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। আইনজীবী আনাস তানভীরের মতে, ব্যক্তিগত জায়গায় এমন জমায়েত নিষিদ্ধ করতে হলে রাষ্ট্রকে আগে শক্তিশালী আইনগত ভিত্তি দেখাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর প্রদেশে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও জনপরিসর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামাজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে মামলা ও ধরপাকড় করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের ‘প্রক্রিয়াগত শাস্তি’র মাধ্যমে মুসলিম সমাজের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকারচর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতে ব্যক্তিগত পরিসরে নামাজেও বাধা: উত্তর প্রদেশে আটক ১২, আইনজীবীদের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


ভারতের উত্তর প্রদেশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থানে বা বাড়িতে সমবেত হয়ে নামাজ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের আটক ও আইনি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বেরেলি জেলায় একটি খালি বাড়িতে জুমার নামাজ আদায়ের দায়ে অন্তত ১২ জন মুসলিমকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেরেলি জেলার একটি গ্রামে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ফাঁকা বাড়িতে জুমার নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে গত ১৮ জানুয়ারি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। বাড়িওয়ালার অনুমতি এবং স্থানীয়ভাবে বিকল্প জায়গার অভাব থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ১২ জনকে আটক করে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নিয়মিত সেখানে লোক সমাগম হওয়ায় শান্তি রক্ষার স্বার্থে এই ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র ১৭০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সাধারণত কোনো গুরুতর অপরাধ সংগঠনের আশঙ্কা থাকলে বিনা পরোয়ানায় আটকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

তবে এই আইনি পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের শীর্ষ আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, “ভারতীয় আইনে নামাজ বা প্রার্থনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কোনো বিধান নেই। যদি মালিক কোনো নিয়ম ভঙ্গও করে থাকেন, তবে তা বড়জোর দেওয়ানি অপরাধ বা জরিমানা হতে পারে, কিন্তু ফৌজদারি দণ্ড বা কারাবাস কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।”

অন্যদিকে, প্রখ্যাত আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ধর্ম পালন প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। আইনজীবী আনাস তানভীরের মতে, ব্যক্তিগত জায়গায় এমন জমায়েত নিষিদ্ধ করতে হলে রাষ্ট্রকে আগে শক্তিশালী আইনগত ভিত্তি দেখাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর প্রদেশে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও জনপরিসর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামাজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে মামলা ও ধরপাকড় করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের ‘প্রক্রিয়াগত শাস্তি’র মাধ্যমে মুসলিম সমাজের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকারচর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ