বাংলাদেশে সফররত ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশের ওষুধ খাতের শীর্ষব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হাফেজ ডাক্তার নাঈমুল্লাহ আইয়ুবীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত নিয়ে আলোচনা করেন।
রাজধানীতে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডাক্তার মুহাম্মদ জাকির হোসেন। এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ ওষুধ উৎপাদন, নিয়ন্ত্রণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের নানাবিধ সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাণিজ্য সহজীকরণের প্রস্তাব বৈঠকে আফগান প্রতিনিধি দল ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্যের নিবন্ধন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করার আশ্বাস দেয়। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) স্থিতিশীল রাখতে কাবুল–ঢাকা সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলের মতে, সরাসরি আকাশপথ চালু হলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক ঝুঁকির হার হ্রাস পাবে।
বিনিয়োগ ও রপ্তানি নীতিমালা আফগান পক্ষ বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প উদ্যোক্তাদের আফগানিস্তানে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনায় উচ্চমানের ওষুধ রপ্তানির ওপর জোর দিয়ে জানানো হয় যে, রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্যলেবেলে আফগান মুদ্রা ও সঠিক বিনিময় হার উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনোভাবেই মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ওষুধ রপ্তানি না করার বিষয়ে কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ করতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিতেও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি বৈঠকে বাংলাদেশি শিল্পপতিরা আফগানিস্তানের বাজারে যুক্তিসঙ্গত মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ সরবরাহের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সুনামের কথা উল্লেখ করে তারা এই বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য কার্যক্রম সফরকালে আফগান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া আফগান কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলানা আহমাদুল্লাহ জাহেদ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে সফররত ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশের ওষুধ খাতের শীর্ষব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হাফেজ ডাক্তার নাঈমুল্লাহ আইয়ুবীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত নিয়ে আলোচনা করেন।
রাজধানীতে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডাক্তার মুহাম্মদ জাকির হোসেন। এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ ওষুধ উৎপাদন, নিয়ন্ত্রণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের নানাবিধ সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাণিজ্য সহজীকরণের প্রস্তাব বৈঠকে আফগান প্রতিনিধি দল ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্যের নিবন্ধন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করার আশ্বাস দেয়। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) স্থিতিশীল রাখতে কাবুল–ঢাকা সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলের মতে, সরাসরি আকাশপথ চালু হলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক ঝুঁকির হার হ্রাস পাবে।
বিনিয়োগ ও রপ্তানি নীতিমালা আফগান পক্ষ বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প উদ্যোক্তাদের আফগানিস্তানে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনায় উচ্চমানের ওষুধ রপ্তানির ওপর জোর দিয়ে জানানো হয় যে, রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্যলেবেলে আফগান মুদ্রা ও সঠিক বিনিময় হার উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনোভাবেই মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ওষুধ রপ্তানি না করার বিষয়ে কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ করতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিতেও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি বৈঠকে বাংলাদেশি শিল্পপতিরা আফগানিস্তানের বাজারে যুক্তিসঙ্গত মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ সরবরাহের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সুনামের কথা উল্লেখ করে তারা এই বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য কার্যক্রম সফরকালে আফগান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া আফগান কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলানা আহমাদুল্লাহ জাহেদ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন