যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আঘাত হানা শক্তিশালী শীতকালীন তুষারঝড়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, বিপজ্জনক বরফে সড়ক যোগাযোগ অচল হয়ে যাওয়া এবং বিমান চলাচলে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের কারণে দেশটির বহু অঙ্গরাজ্যে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ বর্তমানে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন চরম শীতের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানান, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ) ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে আগেভাগেই ত্রাণসামগ্রী, জনবল ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান।
আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্টোরেলি সতর্ক করে বলেন, জমে থাকা তুষার ও বরফ গলতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যার ফলে উদ্ধার ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চিত্রও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পাওয়ার আউটেজ ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে টেক্সাস ও লুইসিয়ানায় পৃথকভাবে প্রায় ৫০ হাজার করে গ্রাহক অন্ধকারে রয়েছেন।
টেক্সাসের শেলবি কাউন্টিতে বরফের ভারে শত শত পাইন গাছ ও ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাউন্টির কমিশনার স্টিভি স্মিথ জানান, এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং বরফাচ্ছন্ন রাস্তায় পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। লুইসিয়ানার ডেসোটো প্যারিশেও গাছ ভেঙে যানবাহন ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনি ও রোববার মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওকলাহোমা সিটির উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট সাময়িকভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনি ও রোববার প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে শিকাগো, আটলান্টা, ন্যাশভিল ও শার্লট বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিপর্যয় বাড়ছে। জর্জিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে সম্ভবত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বরফঝড় আঘাত হানতে পারে, যার পরপরই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আঘাত হানা শক্তিশালী শীতকালীন তুষারঝড়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, বিপজ্জনক বরফে সড়ক যোগাযোগ অচল হয়ে যাওয়া এবং বিমান চলাচলে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের কারণে দেশটির বহু অঙ্গরাজ্যে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ বর্তমানে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন চরম শীতের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানান, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ) ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে আগেভাগেই ত্রাণসামগ্রী, জনবল ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান।
আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্টোরেলি সতর্ক করে বলেন, জমে থাকা তুষার ও বরফ গলতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যার ফলে উদ্ধার ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চিত্রও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পাওয়ার আউটেজ ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে টেক্সাস ও লুইসিয়ানায় পৃথকভাবে প্রায় ৫০ হাজার করে গ্রাহক অন্ধকারে রয়েছেন।
টেক্সাসের শেলবি কাউন্টিতে বরফের ভারে শত শত পাইন গাছ ও ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাউন্টির কমিশনার স্টিভি স্মিথ জানান, এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং বরফাচ্ছন্ন রাস্তায় পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। লুইসিয়ানার ডেসোটো প্যারিশেও গাছ ভেঙে যানবাহন ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনি ও রোববার মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওকলাহোমা সিটির উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট সাময়িকভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনি ও রোববার প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে শিকাগো, আটলান্টা, ন্যাশভিল ও শার্লট বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিপর্যয় বাড়ছে। জর্জিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে সম্ভবত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বরফঝড় আঘাত হানতে পারে, যার পরপরই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন