ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বিমানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেলজিয়াম। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ইসরায়েলি সমরাস্ত্রবাহী কোনো বিমান বেলজিয়ামের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না কিংবা সে দেশের বিমানবন্দরে কারিগরি যাত্রাবিরতি (Technical Stop) নিতে পারবে না। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোটের বিশেষ উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় দৈনিক ‘লে সোয়ার’ জানিয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলে সামরিক পণ্য পরিবহনকারী যেকোনো বিমানের যাবতীয় তথ্য ও ফ্লাইটের বিবরণ পূর্বেই বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মূলত আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করাই এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য।
আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ ও তদারকি বেলজিয়াম সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের সেই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘নন-স্টপ ট্রানজিট’ বা মালামাল খালাস না করে যাত্রাবিরতির সুযোগে অস্ত্র পরিবহন করা হতো। এখন থেকে কাস্টমস এবং ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস মোবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (SPF Transport) বিভাগ যৌথভাবে প্রতিটি সন্দেহভাজন বিমানে তল্লাশি ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
আঞ্চলিক বনাম ফেডারেল ক্ষমতা বেলজিয়ামের শাসনব্যবস্থা অনুযায়ী, অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের থাকলেও পরিবহণ ও ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ফেডারেল সরকারের হাতে। ফলে ফেডারেল এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আঞ্চলিক সরকারগুলো অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দিলেও তা বেলজিয়ামের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে পাঠানো সম্ভব হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিভোট এ প্রসঙ্গে বলেন, "আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং ফিলিস্তিন সংকটে কোনোভাবেই সহায়তা না করা বেলজিয়ামের নৈতিক দায়িত্ব।"
গাজা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ গাজায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেলজিয়াম এই সিদ্ধান্ত নিল। যদিও গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবে ইসরায়েলি বাহিনী এরপরও শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেলজিয়ামের এই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বিমানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেলজিয়াম। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ইসরায়েলি সমরাস্ত্রবাহী কোনো বিমান বেলজিয়ামের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না কিংবা সে দেশের বিমানবন্দরে কারিগরি যাত্রাবিরতি (Technical Stop) নিতে পারবে না। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোটের বিশেষ উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় দৈনিক ‘লে সোয়ার’ জানিয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলে সামরিক পণ্য পরিবহনকারী যেকোনো বিমানের যাবতীয় তথ্য ও ফ্লাইটের বিবরণ পূর্বেই বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মূলত আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করাই এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য।
আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ ও তদারকি বেলজিয়াম সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের সেই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘নন-স্টপ ট্রানজিট’ বা মালামাল খালাস না করে যাত্রাবিরতির সুযোগে অস্ত্র পরিবহন করা হতো। এখন থেকে কাস্টমস এবং ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস মোবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (SPF Transport) বিভাগ যৌথভাবে প্রতিটি সন্দেহভাজন বিমানে তল্লাশি ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
আঞ্চলিক বনাম ফেডারেল ক্ষমতা বেলজিয়ামের শাসনব্যবস্থা অনুযায়ী, অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের থাকলেও পরিবহণ ও ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ফেডারেল সরকারের হাতে। ফলে ফেডারেল এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আঞ্চলিক সরকারগুলো অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দিলেও তা বেলজিয়ামের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে পাঠানো সম্ভব হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিভোট এ প্রসঙ্গে বলেন, "আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং ফিলিস্তিন সংকটে কোনোভাবেই সহায়তা না করা বেলজিয়ামের নৈতিক দায়িত্ব।"
গাজা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ গাজায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেলজিয়াম এই সিদ্ধান্ত নিল। যদিও গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবে ইসরায়েলি বাহিনী এরপরও শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেলজিয়ামের এই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন