আফগানিস্তানের চিকিৎসা খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কাবুলের শেখ জায়েদ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো একজন আফগান নিউরোসার্জন সফলভাবে ‘ফাংশনাল নিউরোসার্জারি’ (মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকরী অস্ত্রোপচার) সম্পন্ন করেছেন। এই জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবরুল্লাহ নামে এক যুবক।
যন্ত্রণার অবসান ও সফল অস্ত্রোপচার বাঘলান প্রদেশের বাসিন্দা সাবরুল্লাহ তিন বছর আগে বগলের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষত শুকিয়ে গেলেও তার আঙুলে শুরু হয় তীব্র ও স্থায়ী জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা। চিকিৎসার খোঁজে তিনি পাকিস্তানে গেলেও কোনো সুফল পাননি। অবশেষে নিউরোসার্জন ডা. নাজিবুল্লাহ সেকান্দারের অধীনে প্রায় দুই ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারে তার সেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অবসান ঘটে। ডা. সেকান্দার জানান, অস্ত্রোপচারটি ছিল স্পাইনাল কর্ডের পশ্চাৎমূলের প্রবেশ বিন্দুতে (Dorsal Root Entry Zone) ব্যথার সংকেতবাহী পথগুলো বিচ্ছিন্ন করার জন্য।
চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও মানবিক উদ্যোগ এই ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারকে সফল করতে ডা. সেকান্দার তার ব্যক্তিগত হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় উন্নত সরঞ্জাম সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন, যাতে দরিদ্র ওই রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে পারেন। সাবরুল্লাহর চিকিৎসার জন্য তার বন্ধুরা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয়ভাবে ৮০ হাজার আফগানি (প্রায় ১,২০০ ডলার) সংগ্রহ করেছিলেন। ডা. সেকান্দার বলেন, “এটি আফগানিস্তানে প্রথম কার্যকরী নিউরোসার্জারি। উন্নত দেশগুলোতে এটি স্নায়ু-অস্ত্রোপচারের প্রায় ১০ শতাংশ হলেও অনেক আঞ্চলিক দেশে এখনো এই সুবিধা নেই।”
বিদেশে চিকিৎসা নির্ভরশীলতা হ্রাসের আশা আফগান চিকিৎসকদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক সরঞ্জাম ও সহযোগিতা পেলে দেশেই জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব। হাসপাতালের অপর চিকিৎসক মুহাম্মদ শাফি ফাজলি বলেন, চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই সফল অস্ত্রোপচার কেবল একজনের জীবন বাঁচায়নি, বরং আফগানিস্তানের চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ রোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন থেকে জটিল স্নায়বিক রোগের জন্য রোগীদের আর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশে যেতে হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের চিকিৎসা খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কাবুলের শেখ জায়েদ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো একজন আফগান নিউরোসার্জন সফলভাবে ‘ফাংশনাল নিউরোসার্জারি’ (মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকরী অস্ত্রোপচার) সম্পন্ন করেছেন। এই জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবরুল্লাহ নামে এক যুবক।
যন্ত্রণার অবসান ও সফল অস্ত্রোপচার বাঘলান প্রদেশের বাসিন্দা সাবরুল্লাহ তিন বছর আগে বগলের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষত শুকিয়ে গেলেও তার আঙুলে শুরু হয় তীব্র ও স্থায়ী জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা। চিকিৎসার খোঁজে তিনি পাকিস্তানে গেলেও কোনো সুফল পাননি। অবশেষে নিউরোসার্জন ডা. নাজিবুল্লাহ সেকান্দারের অধীনে প্রায় দুই ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারে তার সেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অবসান ঘটে। ডা. সেকান্দার জানান, অস্ত্রোপচারটি ছিল স্পাইনাল কর্ডের পশ্চাৎমূলের প্রবেশ বিন্দুতে (Dorsal Root Entry Zone) ব্যথার সংকেতবাহী পথগুলো বিচ্ছিন্ন করার জন্য।
চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও মানবিক উদ্যোগ এই ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারকে সফল করতে ডা. সেকান্দার তার ব্যক্তিগত হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় উন্নত সরঞ্জাম সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন, যাতে দরিদ্র ওই রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে পারেন। সাবরুল্লাহর চিকিৎসার জন্য তার বন্ধুরা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয়ভাবে ৮০ হাজার আফগানি (প্রায় ১,২০০ ডলার) সংগ্রহ করেছিলেন। ডা. সেকান্দার বলেন, “এটি আফগানিস্তানে প্রথম কার্যকরী নিউরোসার্জারি। উন্নত দেশগুলোতে এটি স্নায়ু-অস্ত্রোপচারের প্রায় ১০ শতাংশ হলেও অনেক আঞ্চলিক দেশে এখনো এই সুবিধা নেই।”
বিদেশে চিকিৎসা নির্ভরশীলতা হ্রাসের আশা আফগান চিকিৎসকদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক সরঞ্জাম ও সহযোগিতা পেলে দেশেই জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব। হাসপাতালের অপর চিকিৎসক মুহাম্মদ শাফি ফাজলি বলেন, চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই সফল অস্ত্রোপচার কেবল একজনের জীবন বাঁচায়নি, বরং আফগানিস্তানের চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ রোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন থেকে জটিল স্নায়বিক রোগের জন্য রোগীদের আর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশে যেতে হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন