ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ন্যাটো সেনাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য: ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ন্যাটো সেনাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য: ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর


আফগানিস্তানে নিয়োজিত ন্যাটো জোটের সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে খাটো করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আফগান যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীই সম্মুখভাগে (ফ্রন্টলাইন) থেকে লড়াই করেছে, আর ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশের সৈন্যরা নিরাপদ দূরত্বে পেছনে অবস্থান করেছিল। ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত দাবির পরই যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে নিন্দার ঝড় ওঠে।

স্টারমারের তীব্র প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কিয়ার স্টারমার বলেন, “আফগানিস্তানে আমাদের ৪৫৭ জন সেনার আত্মত্যাগ এবং অগণিত আহতের সাহস ও বীরত্ব আমি কখনও ভুলব না। ট্রাম্পের মন্তব্য এই বীর সেনাদের পরিবার এবং পুরো জাতির জন্য চরম অবমাননাকর।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমার মুখ দিয়ে এমন কোনো ভুল কথা বের হতো, তবে আমি অবশ্যই এর জন্য ক্ষমা চাইতাম।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির (অনুচ্ছেদ ৫) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ সেনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা

২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো জোট সম্মিলিতভাবে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে। ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের এই যুদ্ধে ন্যাটোর প্রায় ৩ হাজার ৪৮৬ জন সৈন্য নিহত হন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬১ জন মার্কিন সেনা এবং ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা রয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্রিটিশ সেনারা কেবল লড়েনি, বরং যুদ্ধের অন্যতম কঠিন ক্ষেত্রগুলোতেও নেতৃত্ব দিয়েছে।

চাপে পড়েছেন ট্রাম্প

কেবল স্টারমারই নন, যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা কেমি বাদেনোচ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নাইজেল ফারাজও বলেছেন, “ট্রাম্প এখানে ভুল করছেন।” অন্যদিকে, পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরাও ন্যাটো সেনাদের বীরত্ব নিয়ে উপহাস না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে বিরোধ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকির পর ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন বিতর্ক ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রতার ফাটলকে আরও গভীর করল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ন্যাটো সেনাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য: ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আফগানিস্তানে নিয়োজিত ন্যাটো জোটের সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে খাটো করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আফগান যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীই সম্মুখভাগে (ফ্রন্টলাইন) থেকে লড়াই করেছে, আর ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশের সৈন্যরা নিরাপদ দূরত্বে পেছনে অবস্থান করেছিল। ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত দাবির পরই যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে নিন্দার ঝড় ওঠে।

স্টারমারের তীব্র প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কিয়ার স্টারমার বলেন, “আফগানিস্তানে আমাদের ৪৫৭ জন সেনার আত্মত্যাগ এবং অগণিত আহতের সাহস ও বীরত্ব আমি কখনও ভুলব না। ট্রাম্পের মন্তব্য এই বীর সেনাদের পরিবার এবং পুরো জাতির জন্য চরম অবমাননাকর।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমার মুখ দিয়ে এমন কোনো ভুল কথা বের হতো, তবে আমি অবশ্যই এর জন্য ক্ষমা চাইতাম।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির (অনুচ্ছেদ ৫) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ সেনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা

২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো জোট সম্মিলিতভাবে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে। ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের এই যুদ্ধে ন্যাটোর প্রায় ৩ হাজার ৪৮৬ জন সৈন্য নিহত হন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬১ জন মার্কিন সেনা এবং ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা রয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্রিটিশ সেনারা কেবল লড়েনি, বরং যুদ্ধের অন্যতম কঠিন ক্ষেত্রগুলোতেও নেতৃত্ব দিয়েছে।

চাপে পড়েছেন ট্রাম্প

কেবল স্টারমারই নন, যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা কেমি বাদেনোচ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নাইজেল ফারাজও বলেছেন, “ট্রাম্প এখানে ভুল করছেন।” অন্যদিকে, পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরাও ন্যাটো সেনাদের বীরত্ব নিয়ে উপহাস না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে বিরোধ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকির পর ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন বিতর্ক ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রতার ফাটলকে আরও গভীর করল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ