গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধিতার জেরে প্রতিবেশী দেশ কানাডার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখলে আগামী এক বছরের মধ্যেই চীন ‘কানাডাকে খেয়ে ফেলতে পারে’।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার পরিবর্তে কানাডা এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
গোল্ডেন ডোম নিয়ে বিরোধ:
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “কানাডা গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যদিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কানাডাকেই সুরক্ষা দেবে। এর পরিবর্তে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; যারা প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের গ্রাস করে ফেলবে।” মূলত আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে এল।
এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডে এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপিত হলে কানাডা কোনো খরচ ছাড়াই এর নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করবে। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেছিলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কিছু বিনামূল্যে পায়। আমাদের কারণে তারা টিকে আছে। তাদের উচিত আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।”
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাল্টা জবাব:
ট্রাম্পের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দাভোসে এক মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেঁচে নেই। আমাদের সফলতার মূল কারণ আমরা কানাডিয়ান।” ট্রাম্পের ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগ’ করার অভিযোগকে নাকচ করে কার্নি জানান, কানাডা তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাল্টা জবাবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কিছু বলার আগে নিজের অবস্থান মনে রাখবেন মার্ক।”
চীন-কানাডা বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট:
কানাডার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র হলেও দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে চীন। মাঝে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও সম্প্রতি অটোয়া ও বেইজিং পুনরায় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতা রুখতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি সামরিক দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, যেখানে কানাডার অমত ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চীন ভীতি’ এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের আস্ফালন দুই প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধিতার জেরে প্রতিবেশী দেশ কানাডার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখলে আগামী এক বছরের মধ্যেই চীন ‘কানাডাকে খেয়ে ফেলতে পারে’।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার পরিবর্তে কানাডা এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
গোল্ডেন ডোম নিয়ে বিরোধ:
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “কানাডা গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যদিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কানাডাকেই সুরক্ষা দেবে। এর পরিবর্তে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; যারা প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের গ্রাস করে ফেলবে।” মূলত আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে এল।
এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডে এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপিত হলে কানাডা কোনো খরচ ছাড়াই এর নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করবে। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেছিলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কিছু বিনামূল্যে পায়। আমাদের কারণে তারা টিকে আছে। তাদের উচিত আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।”
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাল্টা জবাব:
ট্রাম্পের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দাভোসে এক মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেঁচে নেই। আমাদের সফলতার মূল কারণ আমরা কানাডিয়ান।” ট্রাম্পের ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগ’ করার অভিযোগকে নাকচ করে কার্নি জানান, কানাডা তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাল্টা জবাবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কিছু বলার আগে নিজের অবস্থান মনে রাখবেন মার্ক।”
চীন-কানাডা বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট:
কানাডার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র হলেও দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে চীন। মাঝে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও সম্প্রতি অটোয়া ও বেইজিং পুনরায় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতা রুখতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি সামরিক দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, যেখানে কানাডার অমত ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চীন ভীতি’ এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের আস্ফালন দুই প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন