ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মিয়ানমারে বিয়ের আসর ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জান্তার বিমান হামলা: নিহত ২৭


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

মিয়ানমারে বিয়ের আসর ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জান্তার বিমান হামলা: নিহত ২৭


মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনী আবারও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ওপর চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। জানুয়ারি ২২, ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইরাবতী'।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তাণ্ডব: কাচিন রাজ্যে ২২ মৃত্যু

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানিয়েছে, এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গ্রামটি মূলত যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল ছিল।

কেআইএ-র মুখপাত্র কর্নেল নও বু অভিযোগ করেন, ওই গ্রামে তাদের কোনো সামরিক অবস্থান ছিল না। তিনি বলেন, “জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমাগম লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তারা এখন স্কুল বা সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো ভিড় দেখলেই বোমা ফেলছে।”

বিয়ের আসরে হামলা: মাগওয়েতে আরও ৫ মৃত্যু

একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপের তাট কোনে গ্রামে একটি বিয়ের প্রস্তুতির সময় বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আউংলান ইনফরমেশন গ্রুপ' জানিয়েছে, সেখানে এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আনন্দঘন একটি সামাজিক অনুষ্ঠান মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

রাখাইনে বন্দিশালায় হামলা

এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও ও পন্নাগিউন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি (এএ) পরিচালিত একটি কারাগারেও বোমা হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এতে সেখানে বন্দি থাকা ২১ জন জান্তা সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। এই হামলায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে এক চরম অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে একের পর এক ঘাঁটি হারানোর পর জান্তা বাহিনী এখন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বসতবাড়ির আঙিনায় নারী-পুরুষের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মিয়ানমারে বিয়ের আসর ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জান্তার বিমান হামলা: নিহত ২৭

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনী আবারও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ওপর চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। জানুয়ারি ২২, ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইরাবতী'।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তাণ্ডব: কাচিন রাজ্যে ২২ মৃত্যু

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানিয়েছে, এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গ্রামটি মূলত যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল ছিল।

কেআইএ-র মুখপাত্র কর্নেল নও বু অভিযোগ করেন, ওই গ্রামে তাদের কোনো সামরিক অবস্থান ছিল না। তিনি বলেন, “জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমাগম লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তারা এখন স্কুল বা সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো ভিড় দেখলেই বোমা ফেলছে।”

বিয়ের আসরে হামলা: মাগওয়েতে আরও ৫ মৃত্যু

একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপের তাট কোনে গ্রামে একটি বিয়ের প্রস্তুতির সময় বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আউংলান ইনফরমেশন গ্রুপ' জানিয়েছে, সেখানে এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আনন্দঘন একটি সামাজিক অনুষ্ঠান মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

রাখাইনে বন্দিশালায় হামলা

এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও ও পন্নাগিউন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি (এএ) পরিচালিত একটি কারাগারেও বোমা হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এতে সেখানে বন্দি থাকা ২১ জন জান্তা সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। এই হামলায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে এক চরম অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে একের পর এক ঘাঁটি হারানোর পর জান্তা বাহিনী এখন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বসতবাড়ির আঙিনায় নারী-পুরুষের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ