ঢাকার আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে নারী-শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে গৃহবন্দী ও জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে পূর্ব ডেন্ডাবর কবরস্থান রোড এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী এক পরিবারের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন মোঃ বোরহান উদ্দিন (৫৮)। দলিলপত্র অনুযায়ী, ক্রয়কৃত জমি থেকে সরকারি সড়কে যাওয়ার জন্য ১০ ফুট প্রশস্ত একটি চলাচলের রাস্তা দেখানো হয়। ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে বোরহান উদ্দিনসহ তার ভাই ও আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও যাতায়াত করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে রাস্তা নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না করার শর্তে স্থানীয় ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার পরিবার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে পারিবারিক আর্থিক প্রয়োজনের কারণে বোরহান উদ্দিন ও তার ভাইগণ ক্রয়কৃত ১২ শতাংশ জমিতে ঘর-দুয়ারসহ ০৮ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত পরিবার নামমাত্র মূল্যে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে ওই জমি কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। পাশাপাশি তাদের কাছে ওই বিক্রি না করে অন্যত্র জমি বিক্রি করলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয় এবং পূর্বে রাস্তা সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অন্যত্র জমি বিক্রি করলে প্রতি শতাংশে ২ লাখ টাকা হারে মোট ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করতে উচু বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং পরে সম্পন্ন দেওয়ালটি নির্মাণ করে চলাচলে বাধাগ্রস্ত করেন।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগে মোছাঃ মাবিয়া বেগম (৫৫), মোঃ হযরত আলী (৬০) ও গোলাম মাওলা (৬০)-কে বিবাদী করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং যেকোনো সময় সম্পত্তি জবরদখলের আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক শেখর মল্লিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা অন্যান্য আইনগত সহায়তার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বাজারদরে তাদের জমির বর্তমান মূল্য প্রায় এক কোটি চার লক্ষ টাকা হলেও অভিযুক্তরা মাত্র ৭০ লক্ষ টাকায় জমি কিনতে চাপ দিচ্ছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত পরিবারটি এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা বন্ধ থাকায় কয়েকটি পরিবারের নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ অমানবিক অবস্থায় দিনযাপন করছেন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে এভাবে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক চলাচলের অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে নারী-শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে গৃহবন্দী ও জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে পূর্ব ডেন্ডাবর কবরস্থান রোড এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী এক পরিবারের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন মোঃ বোরহান উদ্দিন (৫৮)। দলিলপত্র অনুযায়ী, ক্রয়কৃত জমি থেকে সরকারি সড়কে যাওয়ার জন্য ১০ ফুট প্রশস্ত একটি চলাচলের রাস্তা দেখানো হয়। ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে বোরহান উদ্দিনসহ তার ভাই ও আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও যাতায়াত করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে রাস্তা নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না করার শর্তে স্থানীয় ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার পরিবার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে পারিবারিক আর্থিক প্রয়োজনের কারণে বোরহান উদ্দিন ও তার ভাইগণ ক্রয়কৃত ১২ শতাংশ জমিতে ঘর-দুয়ারসহ ০৮ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত পরিবার নামমাত্র মূল্যে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে ওই জমি কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। পাশাপাশি তাদের কাছে ওই বিক্রি না করে অন্যত্র জমি বিক্রি করলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয় এবং পূর্বে রাস্তা সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অন্যত্র জমি বিক্রি করলে প্রতি শতাংশে ২ লাখ টাকা হারে মোট ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করতে উচু বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং পরে সম্পন্ন দেওয়ালটি নির্মাণ করে চলাচলে বাধাগ্রস্ত করেন।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগে মোছাঃ মাবিয়া বেগম (৫৫), মোঃ হযরত আলী (৬০) ও গোলাম মাওলা (৬০)-কে বিবাদী করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং যেকোনো সময় সম্পত্তি জবরদখলের আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক শেখর মল্লিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা অন্যান্য আইনগত সহায়তার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বাজারদরে তাদের জমির বর্তমান মূল্য প্রায় এক কোটি চার লক্ষ টাকা হলেও অভিযুক্তরা মাত্র ৭০ লক্ষ টাকায় জমি কিনতে চাপ দিচ্ছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত পরিবারটি এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা বন্ধ থাকায় কয়েকটি পরিবারের নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ অমানবিক অবস্থায় দিনযাপন করছেন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে এভাবে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক চলাচলের অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন