ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে একমত ন্যাটো ও ডেনমার্ক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে একমত ন্যাটো ও ডেনমার্ক


আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে ডেনমার্ক ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষা জোরদারে ন্যাটোর সক্রিয়তা বৈঠক শেষে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে বলেন, উত্তরের এই বরফাবৃত অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা কেবল ডেনমার্কের একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি পুরো জোটের সামগ্রিক স্বার্থের বিষয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও তৎপরতা মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের দাবি এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অন্য কোনো বৈরী শক্তির নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের অবস্থান সুসংহত করা অপরিহার্য। যদিও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল, তবে ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন যে তিনি সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী নন। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিলে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা তৈরি করছে।

ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক তৎপরতা ডেনমার্ক সরকার শুরু থেকেই কঠোরভাবে বলে আসছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আপসযোগ্য বা আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তবে কৌশলগত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এই সমঝোতার ফলে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং রুশ-চীন জোটের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে একমত ন্যাটো ও ডেনমার্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে ডেনমার্ক ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষা জোরদারে ন্যাটোর সক্রিয়তা বৈঠক শেষে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে বলেন, উত্তরের এই বরফাবৃত অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা কেবল ডেনমার্কের একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি পুরো জোটের সামগ্রিক স্বার্থের বিষয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও তৎপরতা মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের দাবি এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অন্য কোনো বৈরী শক্তির নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের অবস্থান সুসংহত করা অপরিহার্য। যদিও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল, তবে ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন যে তিনি সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী নন। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিলে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা তৈরি করছে।

ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক তৎপরতা ডেনমার্ক সরকার শুরু থেকেই কঠোরভাবে বলে আসছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আপসযোগ্য বা আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তবে কৌশলগত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এই সমঝোতার ফলে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং রুশ-চীন জোটের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ