ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল যুক্তরাষ্ট্র


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল যুক্তরাষ্ট্র


২০২৬দীর্ঘ কয়েক দশকের অংশীদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে শুরু হওয়া এক বছরের দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বিচ্ছেদ কার্যকর হয়।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৮ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটল।

প্রত্যাহারের নেপথ্য কারণ

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে ডব্লিউএইচওর সংস্কারে ব্যর্থতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ডব্লিউএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেছে। এছাড়া সংস্থাটিতে বিপুল পরিমাণ অনুদান দিলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মার্কিন নাগরিকদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বকেয়া অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ সংস্থা ত্যাগ করতে চাইলে এক বছর আগে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সব বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২০২৪-২৫ অর্থবছর বাবদ ২৭ কোটি ডলারেরও বেশি বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংস্থার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তারা এই অর্থ দিতে আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তাদের মতে, মহামারির সময় সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে মার্কিন অর্থনীতির যে ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় এই বকেয়া অত্যন্ত নগণ্য।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেলেও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এইচএইচএস জানিয়েছে, বিশ্বের ৬৩টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব কর্মী ও গবেষণা কাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে যাবে।

এদিকে, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই সিদ্ধান্তকে ‘scientifically reckless’ বা বৈজ্ঞানিকভাবে অবিবেচনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল, মাতৃস্বাস্থ্য ও নতুন ভাইরাসের গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


২০২৬দীর্ঘ কয়েক দশকের অংশীদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে শুরু হওয়া এক বছরের দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বিচ্ছেদ কার্যকর হয়।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৮ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটল।

প্রত্যাহারের নেপথ্য কারণ

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে ডব্লিউএইচওর সংস্কারে ব্যর্থতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ডব্লিউএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেছে। এছাড়া সংস্থাটিতে বিপুল পরিমাণ অনুদান দিলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মার্কিন নাগরিকদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বকেয়া অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ সংস্থা ত্যাগ করতে চাইলে এক বছর আগে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সব বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২০২৪-২৫ অর্থবছর বাবদ ২৭ কোটি ডলারেরও বেশি বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংস্থার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তারা এই অর্থ দিতে আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তাদের মতে, মহামারির সময় সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে মার্কিন অর্থনীতির যে ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় এই বকেয়া অত্যন্ত নগণ্য।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেলেও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এইচএইচএস জানিয়েছে, বিশ্বের ৬৩টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব কর্মী ও গবেষণা কাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে যাবে।

এদিকে, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই সিদ্ধান্তকে ‘scientifically reckless’ বা বৈজ্ঞানিকভাবে অবিবেচনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল, মাতৃস্বাস্থ্য ও নতুন ভাইরাসের গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ