ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে আমিরাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে আমিরাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জেলেনস্কি এই ঘোষণা দেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এদিকে, শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে মস্কো রওনা হয়েছেন।


স্টিভ উইটকফ জানান, শান্তি আলোচনার অধিকাংশ জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে 'পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ মর্যাদা' নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জেলেনস্কি পরিষ্কার করেছেন। মূলত ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলকে একটি নিরস্ত্রীকৃত ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে কিয়েভকে শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। জেলেনস্কি জানান, ডনবাসের ২৫ শতাংশ এলাকা যা এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে কিয়েভ প্রস্তুত, যদি রাশিয়াও সমান্তরালভাবে সেনা সরিয়ে নেয়।

জেলেনস্কি আরও জানান, কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর করার আগে মার্কিন কংগ্রেস এবং ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। জেলেনস্কির মতে, ইউরোপীয় মিত্ররা পাশে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই কার্যকর হবে না।

এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক কিন্তু সতর্ক সংকেত পাওয়া গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মার্কিন দূতের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে জেলেনস্কি জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেও রাশিয়া পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান আন্দ্রি হ্নাতভ অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মস্কো সফর শেষে মার্কিন দূত উইটকফ সরাসরি আবুধাবিতে যোগ দেবেন, যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে আমিরাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জেলেনস্কি এই ঘোষণা দেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এদিকে, শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে মস্কো রওনা হয়েছেন।


স্টিভ উইটকফ জানান, শান্তি আলোচনার অধিকাংশ জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে 'পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ মর্যাদা' নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জেলেনস্কি পরিষ্কার করেছেন। মূলত ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলকে একটি নিরস্ত্রীকৃত ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে কিয়েভকে শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। জেলেনস্কি জানান, ডনবাসের ২৫ শতাংশ এলাকা যা এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে কিয়েভ প্রস্তুত, যদি রাশিয়াও সমান্তরালভাবে সেনা সরিয়ে নেয়।

জেলেনস্কি আরও জানান, কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর করার আগে মার্কিন কংগ্রেস এবং ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। জেলেনস্কির মতে, ইউরোপীয় মিত্ররা পাশে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই কার্যকর হবে না।

এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক কিন্তু সতর্ক সংকেত পাওয়া গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মার্কিন দূতের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে জেলেনস্কি জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেও রাশিয়া পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান আন্দ্রি হ্নাতভ অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মস্কো সফর শেষে মার্কিন দূত উইটকফ সরাসরি আবুধাবিতে যোগ দেবেন, যেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ