ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী—এমন তথ্য সামনে এসেছে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে নারী সাংবাদিকদের কথোপকথনের একটি অডিও থেকে। খবরটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, জামায়াত তাদের বন্ধু হোক। তিনি আরও বলেন, জামায়াত যদি শরীয়াহ আইন চালু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াত এই আইন চালু করবে না, কারণ দেশের উচ্চশিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জনসংখ্যা এটিকে প্রতিরোধ করবে।

অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, জামায়াত ছাড়া হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রক্ষাকারী অবস্থান বজায় রাখা, বিশেষ করে দেশের পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা বিবেচনায়। তিনি স্পষ্ট করেন, নারীদের কাজের সময় সীমিত করা বা শরীয়াহ আইন প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বন্ধ করবে, যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “এই আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে হয়েছে। এসব কথোপকথন সাধারণত বাইরে প্রকাশ করা হয় না এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না। তবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ওয়াশিংটনে জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চারটি বৈঠক হয়েছে। ঢাকাতেও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ার-এর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জটিলতার মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছে। যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চ্যালেঞ্জিং করতে পারে। ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের মিত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী—এমন তথ্য সামনে এসেছে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে নারী সাংবাদিকদের কথোপকথনের একটি অডিও থেকে। খবরটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।


সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, জামায়াত তাদের বন্ধু হোক। তিনি আরও বলেন, জামায়াত যদি শরীয়াহ আইন চালু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াত এই আইন চালু করবে না, কারণ দেশের উচ্চশিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জনসংখ্যা এটিকে প্রতিরোধ করবে।


অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, জামায়াত ছাড়া হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রক্ষাকারী অবস্থান বজায় রাখা, বিশেষ করে দেশের পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা বিবেচনায়। তিনি স্পষ্ট করেন, নারীদের কাজের সময় সীমিত করা বা শরীয়াহ আইন প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বন্ধ করবে, যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।


ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “এই আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে হয়েছে। এসব কথোপকথন সাধারণত বাইরে প্রকাশ করা হয় না এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।”


জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না। তবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ওয়াশিংটনে জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চারটি বৈঠক হয়েছে। ঢাকাতেও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ার-এর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে।


দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জটিলতার মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছে। যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চ্যালেঞ্জিং করতে পারে। ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের মিত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ