ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হবে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax‑AIT) এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ই‑রিটার্নে ক্রেডিট হবে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমদানিকারকদের দীর্ঘদিন ধরে উত্তরণকারী সমস্যা দূর হবে এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হয়ে উঠবে।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধা ই‑রিটার্ন সিস্টেম এবং কাস্টমসের ব্যবহৃত ‘ASYCUDA World’ সফটওয়্যারের সফল সংযোগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারক যখন ই‑রিটার্নে ব্যবসায়িক আয় ও তথ্য এন্ট্রি করবেন, তখন সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে প্রতিটি “Bill of Entry” অনুযায়ী পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে এবং সেটি মোট আয়কর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দিয়ে নেট আয়কর নিরূপণ করবে। এর জন্য করদাতাকে কোনো কাগজপত্র আপলোড বা আলাদা ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে না।

এনবিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে বিশেষত আমদানিকারী ব্যবসায়ীদের রিটার্ন ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে সময় কমবে, ভুলের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং সমন্বয় সংক্রান্ত বিরোধও কমবে। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকালীন কর সমন্বয় নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হতো, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর ২০২৫‑২৬ কর বছরের ই‑রিটার্ন ফাইলিং ব্যবস্থা আগস্ট মাসেই শুরু করা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন (৪৬ লাখ) ট্যাক্স পেয়ার এই সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় **৩.৩ মিলিয়ন (৩৩ লাখ) ইতোমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক করদাতা স্বেচ্ছায় এই সেবাটি গ্রহণ করছেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই ই‑রিটার্ন সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং প্রায় ৪,০০০ জন প্রবাসী করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন অনলাইনে জমা দিয়েছেন।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সকল করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রমাণপত্র আপলোডের প্রয়োজন নেই, যা করদাতাদের বাড়তি সময় ও কাগজবিহীন প্রক্রিয়ার সুবিধা দেবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইতোমধ্যেই এনবিআরের উদ্যোগ ডিজিটাল কর প্রশাসনে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করছে। রিটার্ন দাখিলের সময় আমদানি পর্যায়ে পক্ষান্তরে যত দ্রুত এবং স্বচ্ছ সমন্বয় সম্ভব হবে, তত করদাতাদের উপর প্রশাসনিক বোঝা কমবে এবং ব্যবসা কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এনবিআরের এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও করদাতা‑বান্ধব করা এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এর মতো উদ্দ্যেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হবে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax‑AIT) এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ই‑রিটার্নে ক্রেডিট হবে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমদানিকারকদের দীর্ঘদিন ধরে উত্তরণকারী সমস্যা দূর হবে এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হয়ে উঠবে।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধা ই‑রিটার্ন সিস্টেম এবং কাস্টমসের ব্যবহৃত ‘ASYCUDA World’ সফটওয়্যারের সফল সংযোগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারক যখন ই‑রিটার্নে ব্যবসায়িক আয় ও তথ্য এন্ট্রি করবেন, তখন সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে প্রতিটি “Bill of Entry” অনুযায়ী পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে এবং সেটি মোট আয়কর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দিয়ে নেট আয়কর নিরূপণ করবে। এর জন্য করদাতাকে কোনো কাগজপত্র আপলোড বা আলাদা ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে না।

এনবিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে বিশেষত আমদানিকারী ব্যবসায়ীদের রিটার্ন ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে সময় কমবে, ভুলের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং সমন্বয় সংক্রান্ত বিরোধও কমবে। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকালীন কর সমন্বয় নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হতো, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর ২০২৫‑২৬ কর বছরের ই‑রিটার্ন ফাইলিং ব্যবস্থা আগস্ট মাসেই শুরু করা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন (৪৬ লাখ) ট্যাক্স পেয়ার এই সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় **৩.৩ মিলিয়ন (৩৩ লাখ) ইতোমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক করদাতা স্বেচ্ছায় এই সেবাটি গ্রহণ করছেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই ই‑রিটার্ন সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং প্রায় ৪,০০০ জন প্রবাসী করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন অনলাইনে জমা দিয়েছেন।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সকল করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রমাণপত্র আপলোডের প্রয়োজন নেই, যা করদাতাদের বাড়তি সময় ও কাগজবিহীন প্রক্রিয়ার সুবিধা দেবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইতোমধ্যেই এনবিআরের উদ্যোগ ডিজিটাল কর প্রশাসনে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করছে। রিটার্ন দাখিলের সময় আমদানি পর্যায়ে পক্ষান্তরে যত দ্রুত এবং স্বচ্ছ সমন্বয় সম্ভব হবে, তত করদাতাদের উপর প্রশাসনিক বোঝা কমবে এবং ব্যবসা কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এনবিআরের এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও করদাতা‑বান্ধব করা এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এর মতো উদ্দ্যেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ