পরিবার সাধারণত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু কখনো কখনো ক্ষমতা, সম্পত্তি ও প্রভাবের দ্বন্দ্ব সেই পরিবারকেই ভয় ও নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। নওগাঁর সৌরভ কবিরাজের জীবনে এমন এক বাস্তবতা দেখা দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়ার পরও তিনি পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে, সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে আইনি হয়রানির শিকার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মূল নেতৃত্বে রয়েছেন তার মা ও এক বোন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, বারবার গ্রেপ্তার বা হাজতবাসে পাঠানো গুরুতর মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিশেষ করে যখন ভুক্তভোগী একজন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য এবং স্ত্রী ও সন্তানের উপর নির্ভরশীল, তখন সেই নির্যাতন কেবল ব্যক্তিগত নয়, পুরো পরিবারের মৌলিক অধিকারকে আঘাত করে।
সৌরভ কবিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বারবার উসকানি দিয়ে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আত্মরক্ষার সুযোগ না দিয়ে মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা চিকিৎসা কাগজপত্র ব্যবহার করে নতুন মামলা তৈরির চেষ্টা চলছে। এসব কেবল পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং আইনের অপব্যবহার এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সৌরভ কবিরাজ দাবি করেছেন, তিনি আইন অনুযায়ী সম্পত্তি ফারাজ করেছেন এবং এক ইঞ্চি জমিও অন্যায়ভাবে দাবি করেননি। এরপরও নিজের অংশে বেড়া দিতে গিয়ে তাকে মারধর ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, আইন সম্মতভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগ করতে না পারা এবং সহিংসতার শিকার হওয়া মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগ সংবেদনশীল হলেও মানবাধিকার প্রশ্নে সত্য উদঘাটন গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত মা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মারধরের শিকার হননি। এরপরও মামলার চেষ্টা হলে তা শুধু একজন পুরুষের অধিকার লঙ্ঘন নয়, প্রকৃত নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। পুলিশের ভূমিকা আপাতদৃষ্টিতে দায়িত্বশীল হলেও মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা মামলা গ্রহণ বা ভাড়াটে লোক দিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা উপেক্ষা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মৌলিক মানবাধিকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সৌরভ কবিরাজের দাবি, তিনি আইনের বাইরে এক ইঞ্চি জমিও চান না, শুধু নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। কিন্তু যখন নিজের মা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, তখন কোথায় আশ্রয় পাবেন? এই প্রশ্ন শুধুই সৌরভের নয়, বরং সকলের, যারা পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আইনের আশ্রয় নিয়েও নিরাপত্তা পায় না। নওগাঁর এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন অনেক সময় ঘরের ভেতরেই শুরু হয় এবং রাষ্ট্র সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে একজন নাগরিক ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
পরিবার সাধারণত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু কখনো কখনো ক্ষমতা, সম্পত্তি ও প্রভাবের দ্বন্দ্ব সেই পরিবারকেই ভয় ও নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। নওগাঁর সৌরভ কবিরাজের জীবনে এমন এক বাস্তবতা দেখা দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়ার পরও তিনি পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে, সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে আইনি হয়রানির শিকার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মূল নেতৃত্বে রয়েছেন তার মা ও এক বোন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, বারবার গ্রেপ্তার বা হাজতবাসে পাঠানো গুরুতর মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিশেষ করে যখন ভুক্তভোগী একজন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য এবং স্ত্রী ও সন্তানের উপর নির্ভরশীল, তখন সেই নির্যাতন কেবল ব্যক্তিগত নয়, পুরো পরিবারের মৌলিক অধিকারকে আঘাত করে।
সৌরভ কবিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বারবার উসকানি দিয়ে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আত্মরক্ষার সুযোগ না দিয়ে মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা চিকিৎসা কাগজপত্র ব্যবহার করে নতুন মামলা তৈরির চেষ্টা চলছে। এসব কেবল পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং আইনের অপব্যবহার এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সৌরভ কবিরাজ দাবি করেছেন, তিনি আইন অনুযায়ী সম্পত্তি ফারাজ করেছেন এবং এক ইঞ্চি জমিও অন্যায়ভাবে দাবি করেননি। এরপরও নিজের অংশে বেড়া দিতে গিয়ে তাকে মারধর ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, আইন সম্মতভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগ করতে না পারা এবং সহিংসতার শিকার হওয়া মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগ সংবেদনশীল হলেও মানবাধিকার প্রশ্নে সত্য উদঘাটন গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত মা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মারধরের শিকার হননি। এরপরও মামলার চেষ্টা হলে তা শুধু একজন পুরুষের অধিকার লঙ্ঘন নয়, প্রকৃত নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। পুলিশের ভূমিকা আপাতদৃষ্টিতে দায়িত্বশীল হলেও মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা মামলা গ্রহণ বা ভাড়াটে লোক দিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা উপেক্ষা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মৌলিক মানবাধিকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সৌরভ কবিরাজের দাবি, তিনি আইনের বাইরে এক ইঞ্চি জমিও চান না, শুধু নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। কিন্তু যখন নিজের মা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, তখন কোথায় আশ্রয় পাবেন? এই প্রশ্ন শুধুই সৌরভের নয়, বরং সকলের, যারা পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আইনের আশ্রয় নিয়েও নিরাপত্তা পায় না। নওগাঁর এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন অনেক সময় ঘরের ভেতরেই শুরু হয় এবং রাষ্ট্র সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে একজন নাগরিক ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

আপনার মতামত লিখুন