গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রতীক্ষিত বেসামরিক নির্দলীয় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সরকার গঠনের কথা জানিয়েছে মিসরীয় সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ চ্যানেল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩০ সেপ্টেম্বর যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন, সেই পরিকল্পনার আলোকে এই সরকার গঠন করা হয়েছে। নতুন সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপ (এনসিএজি)।
এনসিএজি সরকারের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলের বাসিন্দা ও সুপরিচিত প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ। তার বাইরে নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, তারা সবাই গাজার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ একসময় পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফাত্তাহ বা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি (পিএ) নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এনসিএজি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল মিসর ও কাতার। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার চূড়ান্ত শাসনক্ষমতা থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি পরিষদের হাতে, যার প্রধান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। ওই বোর্ডের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এনসিএজি সরকার পরিচালিত হবে।
বোর্ড অব পিসের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে মিসরে অবস্থান করবেন বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ। এনসিএজি প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ গতকাল কায়রোতে ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
এনসিএজি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, সরকারের নিম্নপর্যায়ে পশ্চিম তীরের পিএ সরকারের প্রভাব বজায় থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ। প্রায় দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল গাজায় যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস সম্মতি জানালে ১০ অক্টোবর থেকে ওই পরিকল্পনা কার্যকর হয়। তিন স্তরের এই পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার, যার দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন ও হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রতীক্ষিত বেসামরিক নির্দলীয় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সরকার গঠনের কথা জানিয়েছে মিসরীয় সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ চ্যানেল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩০ সেপ্টেম্বর যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন, সেই পরিকল্পনার আলোকে এই সরকার গঠন করা হয়েছে। নতুন সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপ (এনসিএজি)।
এনসিএজি সরকারের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলের বাসিন্দা ও সুপরিচিত প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ। তার বাইরে নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, তারা সবাই গাজার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ একসময় পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফাত্তাহ বা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি (পিএ) নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এনসিএজি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল মিসর ও কাতার। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার চূড়ান্ত শাসনক্ষমতা থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি পরিষদের হাতে, যার প্রধান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। ওই বোর্ডের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এনসিএজি সরকার পরিচালিত হবে।
বোর্ড অব পিসের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে মিসরে অবস্থান করবেন বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ। এনসিএজি প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ গতকাল কায়রোতে ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
এনসিএজি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, সরকারের নিম্নপর্যায়ে পশ্চিম তীরের পিএ সরকারের প্রভাব বজায় থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ। প্রায় দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল গাজায় যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস সম্মতি জানালে ১০ অক্টোবর থেকে ওই পরিকল্পনা কার্যকর হয়। তিন স্তরের এই পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার, যার দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন ও হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন