ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত চাপে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির মুখে, যেখানে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
চাবাহার বন্দর ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তাত-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এবং ভারত ও ইরান যৌথভাবে গড়ে তুলছে। বন্দরের একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণভাবে ভারত পরিচালনা করে। এই বন্দর আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চায় যে তারা নিষেধাজ্ঞার শর্তাবলী মেনে কাজ করবে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ চাবাহার বন্দরে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ভারত। এটি কানেক্টিভিটি ডিপ্লোম্যাসির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হয়।
ওমান উপসাগরের এই বন্দর পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ১৩ মে দশ বছর মেয়াদী চুক্তি সই করেছে ভারত। চাবাহার বন্দর দিয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিল নয়াদিল্লি।
২০০৩ সালে ভারত চাবাহার বন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রকল্পটি আইএনসিটিসি (ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর)-র মাধ্যমে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএনসিটিসি প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী পরিবহন প্রকল্প। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়ে গেছে।
ভারতের ইন্ডিয়ান পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড এবং ইরানের পোর্ট অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর শাহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনার ভার ভারতের কাছে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল আফগানিস্তানে ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য পৌঁছানো। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত চাপে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির মুখে, যেখানে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
চাবাহার বন্দর ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তাত-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এবং ভারত ও ইরান যৌথভাবে গড়ে তুলছে। বন্দরের একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণভাবে ভারত পরিচালনা করে। এই বন্দর আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চায় যে তারা নিষেধাজ্ঞার শর্তাবলী মেনে কাজ করবে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ চাবাহার বন্দরে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ভারত। এটি কানেক্টিভিটি ডিপ্লোম্যাসির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হয়।
ওমান উপসাগরের এই বন্দর পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ১৩ মে দশ বছর মেয়াদী চুক্তি সই করেছে ভারত। চাবাহার বন্দর দিয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিল নয়াদিল্লি।
২০০৩ সালে ভারত চাবাহার বন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রকল্পটি আইএনসিটিসি (ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর)-র মাধ্যমে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএনসিটিসি প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী পরিবহন প্রকল্প। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়ে গেছে।
ভারতের ইন্ডিয়ান পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড এবং ইরানের পোর্ট অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর শাহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনার ভার ভারতের কাছে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল আফগানিস্তানে ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য পৌঁছানো। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।

আপনার মতামত লিখুন