ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে ইসরাইলি সেনাদের

ইসরায়েলি সেনাদের ৬০ শতাংশ মানসিক রোগী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইসরায়েলি সেনাদের ৬০ শতাংশ মানসিক রোগী

ফিলিস্তিনের গাজায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাত ও হামলার প্রভাব ইসরায়েলের সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় সংঘাতে আহত ২২ হাজার ৩০০ সেনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিএসটিডি) বা মানসিক চাপ-সংক্রান্ত রোগে ভুগছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নির্বিচার অভিযান চালাতে থাকে। এই সময়ে মৃত্যুর ভয় ও নৈতিক আঘাত—সংঘাতে করা কর্মকাণ্ডের কারণে মানসিক চাপ—ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পিএসটিডির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইসরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি জানান, সেনারা দুই কারণে মানসিক রোগের শিকার হচ্ছেন: সংঘাতকালীন মৃত্যুর ভয় এবং নৈতিক আঘাত।

ম্যাকাবি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাধীন সেনাদের ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চেয়েছেন, আর ২৬ শতাংশ উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যার ৭৮ শতাংশই সংঘাতে অংশ নেওয়া।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামে অভাব ও চরম আতঙ্কের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

সার্বিকভাবে গাজা সংঘাত ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে মানসিক রোগের মাত্রা বাড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পিএসটিডি ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ১৮০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইসরায়েলি সেনাদের ৬০ শতাংশ মানসিক রোগী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের গাজায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাত ও হামলার প্রভাব ইসরায়েলের সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় সংঘাতে আহত ২২ হাজার ৩০০ সেনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিএসটিডি) বা মানসিক চাপ-সংক্রান্ত রোগে ভুগছেন।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নির্বিচার অভিযান চালাতে থাকে। এই সময়ে মৃত্যুর ভয় ও নৈতিক আঘাত—সংঘাতে করা কর্মকাণ্ডের কারণে মানসিক চাপ—ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পিএসটিডির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইসরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি জানান, সেনারা দুই কারণে মানসিক রোগের শিকার হচ্ছেন: সংঘাতকালীন মৃত্যুর ভয় এবং নৈতিক আঘাত।


ম্যাকাবি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাধীন সেনাদের ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চেয়েছেন, আর ২৬ শতাংশ উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যার ৭৮ শতাংশই সংঘাতে অংশ নেওয়া।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামে অভাব ও চরম আতঙ্কের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।


সার্বিকভাবে গাজা সংঘাত ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে মানসিক রোগের মাত্রা বাড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পিএসটিডি ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ১৮০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ