উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব প্রান্তে একটি খামারে আরও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই খামার থেকে ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের দু’টি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বুধবার লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ওই খামারের একটি আটককেন্দ্র থেকে শিশু, নারীসহ ১০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের আজদাবিয়া শহরের ওই খামারে আটক রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী অভিবাসীদের উদ্ধার করে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীরা জানান, আরও অনেকে সেখানে আটক ছিলেন, কিন্তু তাদের খোঁজ মেলেনি। নিরাপত্তা বাহিনী সেই তথ্যের ভিত্তিতে খামারে গণকবরের সন্ধান পায়। গণকবরটি আজদাবিয়া শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূত্রগুলো জানায়, ওই খামারের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি নিজের জমিতে গণকবর থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। লিবিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসার জানিয়েছে, বিভিন্ন আফ্রিকান জাতীয়তার ২১ জনের মরদেহসহ একটি গণকবর উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত জানিয়েছে, খামারের মালিক অভিবাসীদের বন্দি রাখছিল এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে নিরাপত্তা কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন।
অভিবাসীরা কীভাবে মারা গেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের কাছাকাছি হওয়ায় লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপ পৌঁছাতে চাইতেও অভিবাসীরা বিপজ্জনকভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত আন্দোলনের পর থেকে লিবিয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশটিতে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রশাসন সক্রিয়, যেখানে ত্রিপোলি ভিত্তিক পশ্চিমের সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থা ও অস্থিরতার সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয়। অভিযোগ আছে, তারা অভিবাসীদের আটক করে নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব প্রান্তে একটি খামারে আরও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই খামার থেকে ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের দু’টি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বুধবার লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ওই খামারের একটি আটককেন্দ্র থেকে শিশু, নারীসহ ১০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের আজদাবিয়া শহরের ওই খামারে আটক রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী অভিবাসীদের উদ্ধার করে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীরা জানান, আরও অনেকে সেখানে আটক ছিলেন, কিন্তু তাদের খোঁজ মেলেনি। নিরাপত্তা বাহিনী সেই তথ্যের ভিত্তিতে খামারে গণকবরের সন্ধান পায়। গণকবরটি আজদাবিয়া শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূত্রগুলো জানায়, ওই খামারের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি নিজের জমিতে গণকবর থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। লিবিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসার জানিয়েছে, বিভিন্ন আফ্রিকান জাতীয়তার ২১ জনের মরদেহসহ একটি গণকবর উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত জানিয়েছে, খামারের মালিক অভিবাসীদের বন্দি রাখছিল এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে নিরাপত্তা কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন।
অভিবাসীরা কীভাবে মারা গেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের কাছাকাছি হওয়ায় লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপ পৌঁছাতে চাইতেও অভিবাসীরা বিপজ্জনকভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত আন্দোলনের পর থেকে লিবিয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশটিতে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রশাসন সক্রিয়, যেখানে ত্রিপোলি ভিত্তিক পশ্চিমের সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থা ও অস্থিরতার সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয়। অভিযোগ আছে, তারা অভিবাসীদের আটক করে নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন