সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে এমন তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে। আজ (বুধবার) তাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অস্থির হয়ে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে এত ব্যাপক বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে পড়েনি দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
এই আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের লাগামহীন অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ এক ডলার কিনতে ইরানে এখন প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল ব্যয় করতে হচ্ছে।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূচনা হয়।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। দিন যত গড়িয়েছে, ততই তীব্র হয়েছে আন্দোলন। বর্তমানে বিক্ষোভের কারণে দেশটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইরান ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে এমন তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে। আজ (বুধবার) তাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অস্থির হয়ে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে এত ব্যাপক বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে পড়েনি দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
এই আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের লাগামহীন অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ এক ডলার কিনতে ইরানে এখন প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল ব্যয় করতে হচ্ছে।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূচনা হয়।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। দিন যত গড়িয়েছে, ততই তীব্র হয়েছে আন্দোলন। বর্তমানে বিক্ষোভের কারণে দেশটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইরান ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

আপনার মতামত লিখুন