ইরানে গত মাসের শেষ থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সেই বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত শক্তির কারণে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩,৪২৮‑এ উন্নীত হয়েছে বলে Norway‑based Iran Human Rights (IHR) মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। এই তথ্যটি IHR‑র ভেতরের সরকারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংগৃহীত নতুন তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত, এবং এটি একটি “অন্তত” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
এমনকি সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ৮ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে একাই প্রায় ৩,৩৭৯ জন নিহত হয়েছে, যা দমন অভিযানের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে সংঘটিত ডেটা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী বনাম বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু শহরেই ব্যাপক গুলির আওয়াজ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও কঠোর বাহিনী মোতায়েনের মতো দৃশ্য দৃশ্যমান হয়েছে।
অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (HRANA) ও জানিয়েছে ২,৫৭১ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, ১৪৭ জন সরকারপন্থী ও নিরাপত্তা সদস্য এবং ১২ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত আছে। HRANA বলেছে যে ১৮,১০০‑এরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে।
তবে ইরানের সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে এখনও কোনো নির্দিষ্ট বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজারের মধ্যে সংখ্যা স্বীকার করলেও এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাংবাদিকদের মতে IHR ও HRANA‑র তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে দেখাচ্ছে।
বিক্ষোভগুলো ডিসেম্বর ২০২৫ শেষের দিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মানুষের জীবিকার খারাপ পরিস্থিতি থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মৌলিক রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে লোকজন শত শত হাজারের অধিকে রাস্তায় নেমে আসে, যেখানে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।
সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী যেমন Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC), FARAJA পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিট বহু শহরে বিক্ষোভ দমন করতে গুলিবর্ষণ, রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে।
ইরান সরকার ৮ জানুয়ারি থেকে দেশের প্রায় সব এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চালিয়ে দিয়েছে, যার ফলে লোকাল ঘটনা ও casualty‑র ছবি/ভিডিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠানো ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি তথ্য সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানকে সতর্ক করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান যে, তিনি কিছু উৎস থেকে শুনেছেন বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড “সম্ভবত বন্ধ” হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসি কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে, তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই তখনো হয়নি।
ইরানে দমন অভিযানে কমপক্ষে ৩,৪২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জানাচ্ছে — যা বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চতম এবং আপ‑টু‑ডেট তথ্য হিসেবে বিবেচিত। এটি সরকারি সংখ্যা নয়, এবং বিভিন্ন উৎসে সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন প্রতিবেদন করা হলেও হতাহতের পরিমাণ হাজারের উপরে বলে সমানভাবে স্বীকৃত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে গত মাসের শেষ থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সেই বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত শক্তির কারণে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩,৪২৮‑এ উন্নীত হয়েছে বলে Norway‑based Iran Human Rights (IHR) মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। এই তথ্যটি IHR‑র ভেতরের সরকারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংগৃহীত নতুন তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত, এবং এটি একটি “অন্তত” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
এমনকি সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ৮ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে একাই প্রায় ৩,৩৭৯ জন নিহত হয়েছে, যা দমন অভিযানের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে সংঘটিত ডেটা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী বনাম বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু শহরেই ব্যাপক গুলির আওয়াজ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও কঠোর বাহিনী মোতায়েনের মতো দৃশ্য দৃশ্যমান হয়েছে।
অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (HRANA) ও জানিয়েছে ২,৫৭১ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, ১৪৭ জন সরকারপন্থী ও নিরাপত্তা সদস্য এবং ১২ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত আছে। HRANA বলেছে যে ১৮,১০০‑এরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে।
তবে ইরানের সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে এখনও কোনো নির্দিষ্ট বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজারের মধ্যে সংখ্যা স্বীকার করলেও এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাংবাদিকদের মতে IHR ও HRANA‑র তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে দেখাচ্ছে।
বিক্ষোভগুলো ডিসেম্বর ২০২৫ শেষের দিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মানুষের জীবিকার খারাপ পরিস্থিতি থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মৌলিক রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে লোকজন শত শত হাজারের অধিকে রাস্তায় নেমে আসে, যেখানে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।
সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী যেমন Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC), FARAJA পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিট বহু শহরে বিক্ষোভ দমন করতে গুলিবর্ষণ, রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে।
ইরান সরকার ৮ জানুয়ারি থেকে দেশের প্রায় সব এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চালিয়ে দিয়েছে, যার ফলে লোকাল ঘটনা ও casualty‑র ছবি/ভিডিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠানো ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি তথ্য সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানকে সতর্ক করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান যে, তিনি কিছু উৎস থেকে শুনেছেন বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড “সম্ভবত বন্ধ” হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসি কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে, তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই তখনো হয়নি।
ইরানে দমন অভিযানে কমপক্ষে ৩,৪২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জানাচ্ছে — যা বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চতম এবং আপ‑টু‑ডেট তথ্য হিসেবে বিবেচিত। এটি সরকারি সংখ্যা নয়, এবং বিভিন্ন উৎসে সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন প্রতিবেদন করা হলেও হতাহতের পরিমাণ হাজারের উপরে বলে সমানভাবে স্বীকৃত।

আপনার মতামত লিখুন