ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

“ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার দুই আসনে নির্বাচন"


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

“ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার দুই আসনে নির্বাচন"

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও সীমানা বিরোধের পর পাবনা‑১ ও পাবনা‑২ নং সংসদীয় আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে — এমনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আয়োজন করতে পারবে এবং আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে দেশের ৪৬টি আসনের সঙ্গে সঙ্গে পাবনা‑১ ও ২ আসনের সীমানাও পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট জারি করে। এতে পাবনা‑১ আসনে সাঁথিয়া উপজেলা এবং পাবনা‑২ আসনে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এরপর সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হাইকোর্টে একটি মামলা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেড়া উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে ইসির গেজেটের অংশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে এবং পূর্বের সীমানা পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। এই রায়ের ফলে নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আইনজটের কারণে ৯ জানুয়ারি ইসির পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেওয়া হয়, যাতে বলা হয় সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা‑১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন যে আপিল বিভাগের আদেশ না আসা পর্যন্ত নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তবে এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসি লিভ টু আপিল আবেদন করলে তা ১৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এই শুনানি শেষে আদেশ দেন যে, ইসির গেজেট অনুযায়ীই ভোটগ্রহণ করা যাবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার দুই আসনের ভোট নিশ্চিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

আইনি জটিলতার মধ্যেও স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভোটের অধিকার ও সঠিক সীমানা পুনঃস্থাপনের দাবি ছিল। সীমানা স্থগিতের সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ভোটারদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে—এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে স্থানীয় প্রার্থীদের কাছ থেকেও।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সারাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত ভোটের জন্য ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা প্রদান প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে এবং প্রচারণার প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। সারা দেশে ২৮৫২ জন প্রার্থী বৈধ মনোনয়ন পেয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন আসনে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত আদেশ ভোটগ্রহণকে নিশ্চিত করলেও পাবনা‑১ ও ২ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক নেতা‑সমর্থকদের মধ্যে এখনো নির্বাচনী আগ্রহ, প্রত্যাশা ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটাররা জানিয়েছেন যে তারা জীবনমান, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তাদের প্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


“ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার দুই আসনে নির্বাচন"

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও সীমানা বিরোধের পর পাবনা‑১ ও পাবনা‑২ নং সংসদীয় আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে — এমনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আয়োজন করতে পারবে এবং আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে দেশের ৪৬টি আসনের সঙ্গে সঙ্গে পাবনা‑১ ও ২ আসনের সীমানাও পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট জারি করে। এতে পাবনা‑১ আসনে সাঁথিয়া উপজেলা এবং পাবনা‑২ আসনে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এরপর সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হাইকোর্টে একটি মামলা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেড়া উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে ইসির গেজেটের অংশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে এবং পূর্বের সীমানা পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। এই রায়ের ফলে নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আইনজটের কারণে ৯ জানুয়ারি ইসির পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেওয়া হয়, যাতে বলা হয় সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা‑১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন যে আপিল বিভাগের আদেশ না আসা পর্যন্ত নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তবে এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসি লিভ টু আপিল আবেদন করলে তা ১৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এই শুনানি শেষে আদেশ দেন যে, ইসির গেজেট অনুযায়ীই ভোটগ্রহণ করা যাবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার দুই আসনের ভোট নিশ্চিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

আইনি জটিলতার মধ্যেও স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভোটের অধিকার ও সঠিক সীমানা পুনঃস্থাপনের দাবি ছিল। সীমানা স্থগিতের সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ভোটারদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে—এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে স্থানীয় প্রার্থীদের কাছ থেকেও।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সারাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত ভোটের জন্য ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা প্রদান প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে এবং প্রচারণার প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। সারা দেশে ২৮৫২ জন প্রার্থী বৈধ মনোনয়ন পেয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন আসনে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত আদেশ ভোটগ্রহণকে নিশ্চিত করলেও পাবনা‑১ ও ২ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক নেতা‑সমর্থকদের মধ্যে এখনো নির্বাচনী আগ্রহ, প্রত্যাশা ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটাররা জানিয়েছেন যে তারা জীবনমান, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তাদের প্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হবে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ