ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইসরায়েল-সোমালিয়া উত্তেজনা তুঙ্গে

সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

 সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের অভিযোগ

সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্ব আফ্রিকার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমালিয়া সরকার এ অভিযোগ তুললেও সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্প্রতি ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতিকে ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূচনা হয়। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ দাবি করেছেন, ইসরায়েলের স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মত হয়েছে। শর্তগুলো হলো—ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পুনর্বাসন, গালফ অব এডেনে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদান।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি পুনর্বাসন কিংবা বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। এসব দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আরের সাম্প্রতিক হরগেইসা সফর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমালিয়া সরকার এই সফরকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আরব বিশ্বের একাধিক দেশও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের স্বীকৃতি, সোমালিয়ার অভিযোগ এবং সোমালিল্যান্ডের অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে পূর্ব আফ্রিকার কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও এ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্ব আফ্রিকার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমালিয়া সরকার এ অভিযোগ তুললেও সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্প্রতি ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতিকে ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূচনা হয়। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ দাবি করেছেন, ইসরায়েলের স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মত হয়েছে। শর্তগুলো হলো—ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পুনর্বাসন, গালফ অব এডেনে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদান।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি পুনর্বাসন কিংবা বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। এসব দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আরের সাম্প্রতিক হরগেইসা সফর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমালিয়া সরকার এই সফরকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আরব বিশ্বের একাধিক দেশও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের স্বীকৃতি, সোমালিয়ার অভিযোগ এবং সোমালিল্যান্ডের অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে পূর্ব আফ্রিকার কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও এ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ