ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সহিংসতায় অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের দক্ষিণাঞ্চল কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো ভিডিও ফুটেজে গুলিতে নিহত কয়েকজনের মরদেহ ব্যাগে ভরে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন মৃতদেহ রয়েছে এবং পাশের একটি শিল্প শেডেও আরও মরদেহ রাখা হয়েছে।
একই ধরনের ভিডিও এসেছে ফারদিস (কারাজ) ও তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আলগাদির হাসপাতাল থেকেও। সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকা একাধিক মরদেহ দেখা গেছে। এসব ভিডিও থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সহিংসতা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশজুড়েই তা ছড়িয়ে পড়েছে।
৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সীমিত যোগাযোগের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও ভিডিওগুলোর মধ্যে মিল থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বিক্ষোভ দমনে ব্যাপকভাবে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু তার হাসপাতালেই ৭০টির বেশি মরদেহ আনা হয়েছে। ফারদিস ও তেহরানের কিছু এলাকায় সহিংসতা সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে ইলাম ও কেরমানশাহসহ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য শহর থেকেও একই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ থাকলেও স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে সীমিত ভিডিও ও বার্তা দেশের বাইরে পৌঁছাচ্ছে। এসব ব্যবহারকারী মূলত শহর ও তুলনামূলক ধনী এলাকায় অবস্থান করায় দেশের বড় একটি অংশের পরিস্থিতি এখনও অজানা রয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সহিংসতায় অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের দক্ষিণাঞ্চল কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো ভিডিও ফুটেজে গুলিতে নিহত কয়েকজনের মরদেহ ব্যাগে ভরে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন মৃতদেহ রয়েছে এবং পাশের একটি শিল্প শেডেও আরও মরদেহ রাখা হয়েছে।
একই ধরনের ভিডিও এসেছে ফারদিস (কারাজ) ও তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আলগাদির হাসপাতাল থেকেও। সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকা একাধিক মরদেহ দেখা গেছে। এসব ভিডিও থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সহিংসতা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশজুড়েই তা ছড়িয়ে পড়েছে।
৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সীমিত যোগাযোগের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও ভিডিওগুলোর মধ্যে মিল থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বিক্ষোভ দমনে ব্যাপকভাবে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু তার হাসপাতালেই ৭০টির বেশি মরদেহ আনা হয়েছে। ফারদিস ও তেহরানের কিছু এলাকায় সহিংসতা সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে ইলাম ও কেরমানশাহসহ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য শহর থেকেও একই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ থাকলেও স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে সীমিত ভিডিও ও বার্তা দেশের বাইরে পৌঁছাচ্ছে। এসব ব্যবহারকারী মূলত শহর ও তুলনামূলক ধনী এলাকায় অবস্থান করায় দেশের বড় একটি অংশের পরিস্থিতি এখনও অজানা রয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন