ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ বা আল্লাহর শত্রু ঘোষণা করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
ইরানের সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের সব সদস্যকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের আইন অনুযায়ী আল্লাহর শত্রুদের জন্য একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতাও ক্রমেই বাড়ছে। সরকার দাবি করছে, অর্থনৈতিক সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি রিয়েল। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
জাতীয় মুদ্রার এই অবনতির কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার রাজধানী তেহরানসহ প্রায় সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়।
শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ বা আল্লাহর শত্রু ঘোষণা করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
ইরানের সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের সব সদস্যকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের আইন অনুযায়ী আল্লাহর শত্রুদের জন্য একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতাও ক্রমেই বাড়ছে। সরকার দাবি করছে, অর্থনৈতিক সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি রিয়েল। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
জাতীয় মুদ্রার এই অবনতির কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার রাজধানী তেহরানসহ প্রায় সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়।
শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন