ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানে আকাশপথে বড় হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে আকাশপথে বড় হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও আলোচনা শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলা চালানো হলে কোন কোন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি নিশানা করা হবে, তার একটি প্রাথমিক তালিকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটিতে টানা বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিক্ষোভে রূপ নেয়।

ইরানের প্রশাসনের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে খামেনিবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন বহু মানুষ। এর জবাবে সরকার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে, যার শাস্তি ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। আমেরিকা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র যদি আকস্মিকভাবে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে আকাশপথে বড় ধরনের হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনাই প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার ধরন বা সময়সূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়নি। সবকিছুই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এবং সাধারণ সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানে তাৎক্ষণিক কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিক্ষোভ দমনে গত দুই দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৬৫ জনে পৌঁছেছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অহংকারী শাসকদের মতো ট্রাম্পের পতনও অনিবার্য। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলেও ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানে আকাশপথে বড় হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও আলোচনা শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলা চালানো হলে কোন কোন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি নিশানা করা হবে, তার একটি প্রাথমিক তালিকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


ইরানের পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটিতে টানা বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিক্ষোভে রূপ নেয়।


ইরানের প্রশাসনের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে খামেনিবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন বহু মানুষ। এর জবাবে সরকার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে, যার শাস্তি ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।


এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। আমেরিকা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে প্রস্তুত।”


ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র যদি আকস্মিকভাবে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে আকাশপথে বড় ধরনের হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনাই প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার ধরন বা সময়সূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়নি। সবকিছুই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এবং সাধারণ সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানে তাৎক্ষণিক কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।


বিক্ষোভ দমনে গত দুই দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৬৫ জনে পৌঁছেছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।


এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অহংকারী শাসকদের মতো ট্রাম্পের পতনও অনিবার্য। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলেও ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ