ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ‘১ লাখ ডলার ঘুষ’ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ‘১ লাখ ডলার ঘুষ’ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনার উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচনায় উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দাকে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন। এই পরিকল্পনাকে অনেক বিশ্লেষক “জনগণের মাঝে প্রভাব বিস্তারের আর্থিক কৌশল” বা কার্যত ঘুষ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ নতুন নয়। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব, সামরিক সম্ভাবনা, ভবিষ্যতের বাণিজ্যপথ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নজরে। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে প্রতিহত করার লক্ষ্যও এতে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড ‘কেনার’ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই ভাবনারই এক নতুন রূপ হিসেবে উঠে এসেছে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব।

হোয়াইট হাউসের ভেতরে এমন আলোচনা চললেও এখনো কোনো পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। কীভাবে অর্থ দেওয়া হবে, কোন কাঠামোর মাধ্যমে দেওয়া হবে বা এর বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সামরিক বিকল্প নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় দেশই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিক ইউনিয়ন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়”, এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে। ডেনমার্কও প্রস্তাবটিকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিকল্পনা ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে আস্থা সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, অর্থ দিয়ে ভূখণ্ডের জনগণকে প্রভাবিত করার এই ধরনের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছায় পরিস্থিতির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টানতে এই আর্থিক প্রলোভনের পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হবে কি না তা অনিশ্চিত হলেও এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ‘১ লাখ ডলার ঘুষ’ দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনার উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচনায় উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দাকে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন। এই পরিকল্পনাকে অনেক বিশ্লেষক “জনগণের মাঝে প্রভাব বিস্তারের আর্থিক কৌশল” বা কার্যত ঘুষ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ নতুন নয়। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব, সামরিক সম্ভাবনা, ভবিষ্যতের বাণিজ্যপথ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নজরে। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে প্রতিহত করার লক্ষ্যও এতে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড ‘কেনার’ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই ভাবনারই এক নতুন রূপ হিসেবে উঠে এসেছে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব।

হোয়াইট হাউসের ভেতরে এমন আলোচনা চললেও এখনো কোনো পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। কীভাবে অর্থ দেওয়া হবে, কোন কাঠামোর মাধ্যমে দেওয়া হবে বা এর বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সামরিক বিকল্প নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় দেশই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিক ইউনিয়ন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়”, এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে। ডেনমার্কও প্রস্তাবটিকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিকল্পনা ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে আস্থা সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, অর্থ দিয়ে ভূখণ্ডের জনগণকে প্রভাবিত করার এই ধরনের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছায় পরিস্থিতির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টানতে এই আর্থিক প্রলোভনের পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হবে কি না তা অনিশ্চিত হলেও এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ