ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা জয়শঙ্করের


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা জয়শঙ্করের
চিত্র : সংগৃহীত

পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে অভিহিত করে ইসলামাবাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ভারতের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়—তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।

বক্তৃতায় জয়শঙ্কর মূলত গত মে মাসে পাকিস্তানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, কোনো দেশের খারাপ প্রতিবেশী থাকতে পারে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে সেটিই বাস্তবতা। যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিচলভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে অন্য কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, ভারত তাই করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই চুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বহু বছর আগে পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল, কিন্তু যদি কোনো দেশ দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যায়, তাহলে ভালো প্রতিবেশীত্ব থাকে না এবং তার সুবিধাও পাওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি ভাগাভাগির দাবি করা যুক্তিসংগত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশী দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ হয় বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি সদয় হওয়া এবং সহযোগিতা করার প্রবণতা থাকে, আর ভারত একটি রাষ্ট্র হিসেবে সেটিই করে থাকে।

এর আগে গত মাসে জয়শঙ্কর মন্তব্য করেছিলেন, ভারতের বেশিরভাগ সমস্যার উৎস পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেমন ভালো ও খারাপ সন্ত্রাসী রয়েছে, তেমনি ভালো সামরিক নেতাও আছে, আবার এমন নেতাও আছেন যাদের ভালো বলা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা জয়শঙ্করের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে অভিহিত করে ইসলামাবাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ভারতের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়—তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।


বক্তৃতায় জয়শঙ্কর মূলত গত মে মাসে পাকিস্তানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, কোনো দেশের খারাপ প্রতিবেশী থাকতে পারে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে সেটিই বাস্তবতা। যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিচলভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে।


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে অন্য কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, ভারত তাই করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।


১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই চুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বহু বছর আগে পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল, কিন্তু যদি কোনো দেশ দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যায়, তাহলে ভালো প্রতিবেশীত্ব থাকে না এবং তার সুবিধাও পাওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি ভাগাভাগির দাবি করা যুক্তিসংগত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


ভারত বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশী দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ হয় বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি সদয় হওয়া এবং সহযোগিতা করার প্রবণতা থাকে, আর ভারত একটি রাষ্ট্র হিসেবে সেটিই করে থাকে।


এর আগে গত মাসে জয়শঙ্কর মন্তব্য করেছিলেন, ভারতের বেশিরভাগ সমস্যার উৎস পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেমন ভালো ও খারাপ সন্ত্রাসী রয়েছে, তেমনি ভালো সামরিক নেতাও আছে, আবার এমন নেতাও আছেন যাদের ভালো বলা যায় না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ