ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশমাতা খালেদা জিয়াকে খুব কাছে থেকে দেখার স্মৃতিচারণ



দেশমাতা খালেদা জিয়াকে খুব কাছে থেকে দেখার স্মৃতিচারণ
বেগম খালেদা জিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দিকপাল হিসেবে চিহ্নিত। আজ (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রফেসর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান-এর লেখা এক স্মৃতিচারণে নিজের জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়ের কথা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। 

প্রফেসর কামরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন তাঁর কফিন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় আনা হয়, তখন তিনি সেই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। সেদিনই তিনি প্রথমবারের মতো বেগম খালেদা জিয়াকে এত কাছ থেকে দেখেন। এরশাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার উচ্চারিত সেই বেদনাভরা প্রশ্ন—“তোমরা তাঁকে বাঁচতেও দিলে না?”—এখনও তাঁর মনে গেঁথে আছে। সেই মুহূর্তেই খালেদা জিয়ার অদম্য মানসিক শক্তি, সাংসারিক দৃঢ়তা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ছিল নানা উত্থান–পতনে ভরা। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে যে অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, তা আজ জাতির কাছে স্মরণীয়। সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও অসুস্থতার পর তার মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে বেদনার গভীর অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

দেশজুড়ে নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোকের বহির্গমন দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন সংগঠন তাকে “আগামীর অনুপ্রেরণা” হিসেবে উল্লেখ করেছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। 

প্রফেসর কামরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ ব্যক্তিগত হলেও তা দেশের রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য অনুভূতি এবং ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মতে, বেদনা ও কঠোরতার মাঝেও বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও মানবিকতা স্বচ্ছতার মতো ফুটে উঠেছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


দেশমাতা খালেদা জিয়াকে খুব কাছে থেকে দেখার স্মৃতিচারণ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দিকপাল হিসেবে চিহ্নিত। আজ (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রফেসর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান-এর লেখা এক স্মৃতিচারণে নিজের জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়ের কথা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। 

প্রফেসর কামরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন তাঁর কফিন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় আনা হয়, তখন তিনি সেই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। সেদিনই তিনি প্রথমবারের মতো বেগম খালেদা জিয়াকে এত কাছ থেকে দেখেন। এরশাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার উচ্চারিত সেই বেদনাভরা প্রশ্ন—“তোমরা তাঁকে বাঁচতেও দিলে না?”—এখনও তাঁর মনে গেঁথে আছে। সেই মুহূর্তেই খালেদা জিয়ার অদম্য মানসিক শক্তি, সাংসারিক দৃঢ়তা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ছিল নানা উত্থান–পতনে ভরা। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে যে অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, তা আজ জাতির কাছে স্মরণীয়। সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও অসুস্থতার পর তার মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে বেদনার গভীর অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

দেশজুড়ে নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোকের বহির্গমন দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন সংগঠন তাকে “আগামীর অনুপ্রেরণা” হিসেবে উল্লেখ করেছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। 

প্রফেসর কামরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ ব্যক্তিগত হলেও তা দেশের রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য অনুভূতি এবং ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মতে, বেদনা ও কঠোরতার মাঝেও বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও মানবিকতা স্বচ্ছতার মতো ফুটে উঠেছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ