ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইউক্রেনের সংসদে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার হঠাৎ অভিযান


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের সংসদে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার হঠাৎ অভিযান

ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (NABU) ও বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (SAPO) একটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে পার্লামেন্ট ভবনে অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে। কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প, শক্তিখাত, অস্ত্র সরবরাহ ও বাজেট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযানের পথ রোধ করায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাদ্বয়ের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রকে অনুসরণ করছিল, যাদের সঙ্গে সংসদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। NABU জানায়, এই চক্র রাষ্ট্রীয় কন্ট্রাক্ট ও এনার্জি সেক্টরের কিছু বহুল আলোচিত প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। “অপারেশন মিডাস” নামে পরিচিত একটি পূর্ববর্তী অভিযানে শক্তি খাতে ব্যাপক দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, পার্লামেন্ট ভবনের নির্দিষ্ট কিছু কমিটি কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয় এবং অভিযানের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে। NABU এ ঘটনাকে “দুর্নীতি ঢাকতে প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তারা কেবল “নিরাপত্তা প্রোটোকল” অনুসরণ করেছেন।

এই ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সরকারপক্ষ বলছে, তদন্ত সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতি তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা এখন ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে পার্লামেন্ট এক বিতর্কিত আইন পাস করে, যা NABU ও SAPO-এর স্বাধীনতা হ্রাস করবে বলে সমালোচনায় পড়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর সরকার আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে সাম্প্রতিক অভিযানকে অনেকেই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসনের মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি দমন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত যখন দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অভিযান দেশটির বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইউক্রেনের সংসদে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার হঠাৎ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (NABU) ও বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (SAPO) একটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে পার্লামেন্ট ভবনে অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে। কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প, শক্তিখাত, অস্ত্র সরবরাহ ও বাজেট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযানের পথ রোধ করায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।


দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাদ্বয়ের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রকে অনুসরণ করছিল, যাদের সঙ্গে সংসদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। NABU জানায়, এই চক্র রাষ্ট্রীয় কন্ট্রাক্ট ও এনার্জি সেক্টরের কিছু বহুল আলোচিত প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। “অপারেশন মিডাস” নামে পরিচিত একটি পূর্ববর্তী অভিযানে শক্তি খাতে ব্যাপক দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়।


তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, পার্লামেন্ট ভবনের নির্দিষ্ট কিছু কমিটি কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয় এবং অভিযানের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে। NABU এ ঘটনাকে “দুর্নীতি ঢাকতে প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তারা কেবল “নিরাপত্তা প্রোটোকল” অনুসরণ করেছেন।


এই ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সরকারপক্ষ বলছে, তদন্ত সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতি তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা এখন ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এর আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে পার্লামেন্ট এক বিতর্কিত আইন পাস করে, যা NABU ও SAPO-এর স্বাধীনতা হ্রাস করবে বলে সমালোচনায় পড়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর সরকার আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে সাম্প্রতিক অভিযানকে অনেকেই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসনের মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি দমন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত যখন দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অভিযান দেশটির বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ