বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও সহিংসতা নিয়ে ভারত পুনরায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দিল্লির দাবি, বিভিন্ন স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ২৯০০টি সহিংস ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই ‘মিডিয়ার অতিরঞ্জন’ বা ‘রাজনৈতিক সহিংসতার সাধারণ অংশ’ বলে হালকাভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এসব তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা “অবিরাম শত্রুতা” বা ধারাবাহিক বিদ্বেষমূলক আচরণের একটি প্রতিচ্ছবি। তিনি উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা ও পরে তার লাশ পোড়ানোর ঘটনা ভারতের দৃষ্টিতে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এই ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়ভীতি, বাড়িঘরে হামলা, ও ধর্মীয় স্থাপনায় ক্ষতির অভিযোগ উঠে এসেছে।
ভারতের দাবি, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুধুই ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সামাজিক উত্তেজনা ও অসহিষ্ণুতা, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী পরিবেশ থাকলেও কোনোভাবেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদাসীন হওয়া উচিত নয়। দিল্লির মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব আরও বেশি।
অন্যদিকে ঢাকা বলছে, ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও ২৯০০ ঘটনার সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তারা মনে করে, আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারিত অনেক তথ্য অতিরঞ্জিত বা অসম্পূর্ণ।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শুধু কূটনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ইস্যু আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের মন্তব্য এক ধরনের সতর্ক সংকেত। তারা বলছেন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ইস্যু অবহেলার সুযোগ নেই; বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত লিখুন