ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের নতুন নীতিমালায় বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের নতুন নীতিমালায় বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত


সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের নতুন নীতিমালা ও আর্থিক প্রণোদনার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এ খাতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে নীতিগত বাধা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অধিকাংশ দাবিই সরকার ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধের বিপরীতে গ্রাহকদের ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

দেশে সৌরবিদ্যুৎ শিল্পের বিকাশে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও আগাম কর শূন্য করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধার সময়সীমা আলাদাভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

রুফটপ সোলারে বিশেষ গুরুত্ব

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে সরকার ছাদভিত্তিক বা রুফটপ সোলারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থাপন করা কিছু রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এ সুবিধা তিন বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ আট টাকা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফলে উদ্যোক্তারা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের একটি বড় অংশ তুলতে পারবেন বলে সরকারের প্রত্যাশা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সোলার প্যানেল আমদানিকারকদের জন্যও বিশেষ সুবিধার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য

সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগে দেশে অন্তত ৩ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। গত ২৯ আগস্ট যশোরে এক অনুষ্ঠানে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই এই অতিরিক্ত সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে সরকারি জমি ব্যবহার করে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন নির্দেশিকাও উপস্থাপন করা হয়। সরকার তখন জানিয়েছিল, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় পরিসরে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর মতে, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা নয়; জীবাশ্ম জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতার চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোকে সরকারের জ্বালানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের নতুন নীতিমালায় বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের নতুন নীতিমালা ও আর্থিক প্রণোদনার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এ খাতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে নীতিগত বাধা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অধিকাংশ দাবিই সরকার ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধের বিপরীতে গ্রাহকদের ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

দেশে সৌরবিদ্যুৎ শিল্পের বিকাশে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও আগাম কর শূন্য করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধার সময়সীমা আলাদাভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

রুফটপ সোলারে বিশেষ গুরুত্ব

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে সরকার ছাদভিত্তিক বা রুফটপ সোলারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থাপন করা কিছু রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এ সুবিধা তিন বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ আট টাকা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফলে উদ্যোক্তারা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের একটি বড় অংশ তুলতে পারবেন বলে সরকারের প্রত্যাশা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সোলার প্যানেল আমদানিকারকদের জন্যও বিশেষ সুবিধার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য

সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগে দেশে অন্তত ৩ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। গত ২৯ আগস্ট যশোরে এক অনুষ্ঠানে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই এই অতিরিক্ত সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে সরকারি জমি ব্যবহার করে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন নির্দেশিকাও উপস্থাপন করা হয়। সরকার তখন জানিয়েছিল, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় পরিসরে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর মতে, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা নয়; জীবাশ্ম জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতার চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোকে সরকারের জ্বালানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ