পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাদীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু রায়হান সোহেল নামে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে তার স্ত্রী ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মালামালসহ (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের) পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট তিনি নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের কথা বলে জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন পূর্বপরিচিত কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেল।
নিজেকে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহেল আশ্বাস দেন যে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি এ অর্থ দাবি করেন। তার কথায় বিশ্বাস করে জাহাঙ্গীর মোল্লা উপজেলার ইন্দেরহাট এলাকার একটি বিকাশ দোকান থেকে সোহেলকে ২৪ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা হস্তান্তরের এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি; বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন সোহেল।
ভুক্তভোগীর ভাগনে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, "আসামিদের ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, কারণ জানতে চাইলে তিনি অজুহাত দিচ্ছেন।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবু রায়হান সোহেল টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আসামি ধরার খরচ হিসেবে ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়েছি এবং বাকি ৫ হাজার টাকা আমার যাতায়াত খরচ হিসেবে রেখেছি। পুলিশ টাকা নিয়ে আসামি না ধরলে আমার কী করার আছে?"
তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, "এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। মামলার আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে কোনো টাকা দিতে হয় না। সোহেলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার আড়ালে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাদীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু রায়হান সোহেল নামে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে তার স্ত্রী ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মালামালসহ (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের) পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট তিনি নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের কথা বলে জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন পূর্বপরিচিত কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেল।
নিজেকে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহেল আশ্বাস দেন যে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি এ অর্থ দাবি করেন। তার কথায় বিশ্বাস করে জাহাঙ্গীর মোল্লা উপজেলার ইন্দেরহাট এলাকার একটি বিকাশ দোকান থেকে সোহেলকে ২৪ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা হস্তান্তরের এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি; বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন সোহেল।
ভুক্তভোগীর ভাগনে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, "আসামিদের ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, কারণ জানতে চাইলে তিনি অজুহাত দিচ্ছেন।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবু রায়হান সোহেল টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আসামি ধরার খরচ হিসেবে ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়েছি এবং বাকি ৫ হাজার টাকা আমার যাতায়াত খরচ হিসেবে রেখেছি। পুলিশ টাকা নিয়ে আসামি না ধরলে আমার কী করার আছে?"
তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, "এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। মামলার আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে কোনো টাকা দিতে হয় না। সোহেলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার আড়ালে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন