বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তাদের কিছু সংশয় রয়েছে। নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখা। দলটির দাবি, জাতীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা না থাকলেও শুধু স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অযোগ্য করা বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
আরেকটি দাবিতে জামায়াত বলেছে, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তবে শুধু কোনো নিষিদ্ধ দলের সাধারণ সমর্থক হওয়ার কারণে কাউকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার কথা বলেনি দলটি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শামসুল আলম অতীতে বিএনপির একটি নির্বাচনবিষয়ক উপকমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তি ইসির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির বক্তব্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে সরকারি অর্থ, উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে অংশ নিলে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে।
তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিরা যাতে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রণয়ন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দলটি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের নয় দফা দাবির কয়েকটির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে সব দাবি শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দেবে না বলেও জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই আগ্রহীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থী হতে পারবেন।
একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা ১১ দলীয় ঐক্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। জোটের অন্য দলগুলোও নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী দিতে পারবে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তাদের কিছু সংশয় রয়েছে। নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখা। দলটির দাবি, জাতীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা না থাকলেও শুধু স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অযোগ্য করা বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
আরেকটি দাবিতে জামায়াত বলেছে, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তবে শুধু কোনো নিষিদ্ধ দলের সাধারণ সমর্থক হওয়ার কারণে কাউকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার কথা বলেনি দলটি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শামসুল আলম অতীতে বিএনপির একটি নির্বাচনবিষয়ক উপকমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তি ইসির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির বক্তব্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে সরকারি অর্থ, উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে অংশ নিলে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে।
তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিরা যাতে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রণয়ন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দলটি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের নয় দফা দাবির কয়েকটির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে সব দাবি শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দেবে না বলেও জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই আগ্রহীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থী হতে পারবেন।
একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা ১১ দলীয় ঐক্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। জোটের অন্য দলগুলোও নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী দিতে পারবে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন