ঢাকা    সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নওগাঁর নিয়ামতপুরে আইন অমান্য করে বহাল তবিয়তে জেলখাটা নায়েব: নেপথ্যে এসিল্যান্ডের মদদের অভিযোগ


মো. মানিক হোসেন
মো. মানিক হোসেন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে আইন অমান্য করে বহাল তবিয়তে জেলখাটা নায়েব: নেপথ্যে এসিল্যান্ডের মদদের অভিযোগ
প্রতিনিধি

ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক সাতদিন কারাবাস খাটার পরও আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ মাহাবুব আলম। বিদ্যমান সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার নিয়ম থাকলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিমের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রশাসনিক আশ্রয়ে তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম, নামজারি ও খাজনা আদায়ে ব্যাপক দুর্নীতি এবং এসিল্যান্ড-নায়েবের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত শাস্তির দাবি জানিয়ে সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর হাজতবাসের প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী সচেতন নাগরিক। আইন লঙ্ঘন ও হাজতবাসের বিবরণ: অনুসন্ধানে ও অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ভূমি কর্মকর্তা মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে নওগাঁর বিজ্ঞ ২নং আমলী আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে মামলা নম্বর: সিআর ৮২৪/২০২৩ (মান্দা)। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিগত ২৪/১২/২০২৫ তারিখ হতে ৩০/১২/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত টানা সাতদিন তিনি হাজতবাস (কারাগারে আটক) খাটেন। বাংলাদেশের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা এবং 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালতের আদেশে কারাগারে আটক বা হাজতবাস করলে, তিনি আটক থাকার তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে 'সাময়িক বরখাস্ত'  (Suspended) বলে গণ্য হবেন। কিন্তু নায়েব মাহাবুবের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। বহিরাগত ব্যক্তি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য: অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্ত নায়েব মাহাবুব আলম সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে তাঁর অফিসে বিজয় মহন্ত (মোবাইল: ০১৭৮৮০০৩৭৬২) নামের একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। এই বহিরাগত ব্যক্তিই ভূমি অফিসে আগত সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জমি খারিজ ও খাজনা আদায়ের নানাবিধ কাজের জন্য সরাসরি আর্থিক চুক্তি বা ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করে থাকেন। ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ: উপজেলার বনগাঁপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র ভুক্তভোগী মোঃ আতাহার আলী (পল্টু) জানান, তাঁর স্ত্রী মোছাঃ হাফসা বেগমের জেএল ১৭২ বনগাাঁপাড়া মৌজার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ২২২, হোল্ডিং নং ৩৪১ এর মওকুফ চেকের ১৪২৬ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ থাকা সত্ত্বেও অনলাইন খাজনা পরিশোধের জন্য গেলে নায়েব মাহাবুব আলম উক্ত বহিরাগত বিজয় মহন্তের মাধ্যমে ৩৬,০০০/- (ছত্রিশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে কাজ হবে না জানিয়ে নায়েব সরাসরি উল্লেখ করেন যে, এই টাকার ভাগ তাঁর স্যার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিমকেও দিতে হবে। নেপথ্যে এসিল্যান্ডের ভূমিকা: গুরুতর বিষয় হলো, নিয়ামতপুর উপজেলার বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিম উক্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার এই ফৌজদারি মামলা, হাজতবাস এবং মাঠ পর্যায়ের ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেননি। উল্টো তিনি নিজের পদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উক্ত কর্মচারীকে প্রত্যক্ষভাবে অনৈতিক সুবিধা ও প্রশাসনিক আশ্রয় প্রদান করে আসছেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির শামিল। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত মাহাবুব আলম এবং বহিরাগত বিজয় মহন্তের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট (Call List) ও কল রেকর্ড সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখলেই তাদের এই সুনির্দিষ্ট অনৈতিক আর্থিক চুক্তির সমস্ত অকাট্য প্রমাণ মিলবে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন। অভিযুক্তদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মূল ঘটনা পাশ কাটিয়ে বলেন, "এখন খুব বিজি (ব্যস্ত) আছি, পরে সময় করে কথা বলবো।" অন্যদিকে, অভিযুক্ত রসুলপুর পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাহাবুব আলমের মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের আশ্বাস: এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও নায়েবের হাজতবাসের প্রত্যয়নপত্রসহ লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুতই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


নওগাঁর নিয়ামতপুরে আইন অমান্য করে বহাল তবিয়তে জেলখাটা নায়েব: নেপথ্যে এসিল্যান্ডের মদদের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক সাতদিন কারাবাস খাটার পরও আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ মাহাবুব আলম। বিদ্যমান সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার নিয়ম থাকলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিমের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রশাসনিক আশ্রয়ে তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম, নামজারি ও খাজনা আদায়ে ব্যাপক দুর্নীতি এবং এসিল্যান্ড-নায়েবের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত শাস্তির দাবি জানিয়ে সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর হাজতবাসের প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী সচেতন নাগরিক। আইন লঙ্ঘন ও হাজতবাসের বিবরণ: অনুসন্ধানে ও অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ভূমি কর্মকর্তা মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে নওগাঁর বিজ্ঞ ২নং আমলী আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে মামলা নম্বর: সিআর ৮২৪/২০২৩ (মান্দা)। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিগত ২৪/১২/২০২৫ তারিখ হতে ৩০/১২/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত টানা সাতদিন তিনি হাজতবাস (কারাগারে আটক) খাটেন। বাংলাদেশের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা এবং 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালতের আদেশে কারাগারে আটক বা হাজতবাস করলে, তিনি আটক থাকার তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে 'সাময়িক বরখাস্ত'  (Suspended) বলে গণ্য হবেন। কিন্তু নায়েব মাহাবুবের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। বহিরাগত ব্যক্তি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য: অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্ত নায়েব মাহাবুব আলম সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে তাঁর অফিসে বিজয় মহন্ত (মোবাইল: ০১৭৮৮০০৩৭৬২) নামের একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। এই বহিরাগত ব্যক্তিই ভূমি অফিসে আগত সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জমি খারিজ ও খাজনা আদায়ের নানাবিধ কাজের জন্য সরাসরি আর্থিক চুক্তি বা ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করে থাকেন। ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ: উপজেলার বনগাঁপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র ভুক্তভোগী মোঃ আতাহার আলী (পল্টু) জানান, তাঁর স্ত্রী মোছাঃ হাফসা বেগমের জেএল ১৭২ বনগাাঁপাড়া মৌজার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ২২২, হোল্ডিং নং ৩৪১ এর মওকুফ চেকের ১৪২৬ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ থাকা সত্ত্বেও অনলাইন খাজনা পরিশোধের জন্য গেলে নায়েব মাহাবুব আলম উক্ত বহিরাগত বিজয় মহন্তের মাধ্যমে ৩৬,০০০/- (ছত্রিশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে কাজ হবে না জানিয়ে নায়েব সরাসরি উল্লেখ করেন যে, এই টাকার ভাগ তাঁর স্যার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিমকেও দিতে হবে। নেপথ্যে এসিল্যান্ডের ভূমিকা: গুরুতর বিষয় হলো, নিয়ামতপুর উপজেলার বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিম উক্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার এই ফৌজদারি মামলা, হাজতবাস এবং মাঠ পর্যায়ের ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেননি। উল্টো তিনি নিজের পদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উক্ত কর্মচারীকে প্রত্যক্ষভাবে অনৈতিক সুবিধা ও প্রশাসনিক আশ্রয় প্রদান করে আসছেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির শামিল। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত মাহাবুব আলম এবং বহিরাগত বিজয় মহন্তের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট (Call List) ও কল রেকর্ড সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখলেই তাদের এই সুনির্দিষ্ট অনৈতিক আর্থিক চুক্তির সমস্ত অকাট্য প্রমাণ মিলবে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন। অভিযুক্তদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মূল ঘটনা পাশ কাটিয়ে বলেন, "এখন খুব বিজি (ব্যস্ত) আছি, পরে সময় করে কথা বলবো।" অন্যদিকে, অভিযুক্ত রসুলপুর পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাহাবুব আলমের মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের আশ্বাস: এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও নায়েবের হাজতবাসের প্রত্যয়নপত্রসহ লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুতই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ