ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম বদলে হচ্ছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম বদলে হচ্ছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’

‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান সংস্কারের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের সুযোগে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন আইজি প্রিজনস।

তিনি জানান, ওই সময় পাঁচটি কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যান। একই সঙ্গে কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান।

পলাতক বন্দিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। তবে এখনো ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য শনাক্ত করা যায়নি।

কারাবন্দি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফোনে কথা বলা কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন। তিনি দাবি করেন, কারাগারে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

কারাগারে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজি প্রিজনস বলেন, গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে।

কারাগারগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নামই পরিবর্তন হবে না, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বন্দিদের হেফাজত ও সংশোধনকেন্দ্রিক আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম বদলে হচ্ছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান সংস্কারের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের সুযোগে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন আইজি প্রিজনস।

তিনি জানান, ওই সময় পাঁচটি কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যান। একই সঙ্গে কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান।

পলাতক বন্দিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। তবে এখনো ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য শনাক্ত করা যায়নি।

কারাবন্দি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফোনে কথা বলা কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন। তিনি দাবি করেন, কারাগারে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

কারাগারে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজি প্রিজনস বলেন, গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে।

কারাগারগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নামই পরিবর্তন হবে না, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বন্দিদের হেফাজত ও সংশোধনকেন্দ্রিক আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ