জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের পর্যায় শুরু হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম এখন রায়ের দিকে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির বিচার চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। এর আগে ১৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি দেন এবং পরে তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং এখনো রায়ে প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের ভূমিকার অভিযোগে সাতজনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আসামিপক্ষ এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান তুলে ধরেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ এবং যুক্তিতর্কের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে রয়েছে। যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখলে এরপর যেকোনো দিন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের পর্যায় শুরু হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম এখন রায়ের দিকে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির বিচার চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। এর আগে ১৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি দেন এবং পরে তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং এখনো রায়ে প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের ভূমিকার অভিযোগে সাতজনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আসামিপক্ষ এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান তুলে ধরেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ এবং যুক্তিতর্কের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে রয়েছে। যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখলে এরপর যেকোনো দিন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন