ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ডনের প্রতিবেদন

হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাতে রোববার (১৬ আগস্ট) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ তথ্য জানিয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি এখনো ‘পরীক্ষাধীন’ রয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফর করতে পারেন—এমন আলোচনা চলছিল। তবে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ভারত সফরের জন্য আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানান শহীদুল করিম।

গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

তবে এর পরপরই ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সফরের পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। শহীদুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা একসময় গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ে তিনি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে না গিয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। এ নীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় সরকার।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সার্বভৌমত্ব ও অনধিকার হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার আগ্রহী।

ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণের বিষয়টি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাতে রোববার (১৬ আগস্ট) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ তথ্য জানিয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি এখনো ‘পরীক্ষাধীন’ রয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফর করতে পারেন—এমন আলোচনা চলছিল। তবে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ভারত সফরের জন্য আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানান শহীদুল করিম।

গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

তবে এর পরপরই ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সফরের পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। শহীদুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা একসময় গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ে তিনি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে না গিয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। এ নীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় সরকার।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সার্বভৌমত্ব ও অনধিকার হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার আগ্রহী।

ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণের বিষয়টি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ