ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বাবার মরদেহ দাফনে সন্তানদের বাধা



সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বাবার মরদেহ দাফনে সন্তানদের বাধা

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে সন্তানদের অনড় অবস্থানের কারণে চার দফায় জানাজার সময় পিছিয়ে এক হতভাগা বাবার মরদেহ দাফনে চরম বিঘ্ন ঘটেছে। দীর্ঘ প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে পড়ে থাকলেও মন গলেনি এক পক্ষের সন্তানদের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাটহাজারী পৌরসভার সেকান্দর মঞ্জিলে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফনের পথ প্রশস্ত হয়েছে।  

সরেজমিনে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেকান্দর মিয়া (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের দুটি সংসার রয়েছে। ৩২ বছর আগে তিনি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। প্রথম সংসারে তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে এবং দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সংসারের সন্তানরা দাফনের প্রস্তুতি নিলেও এতে বাধা প্রদান করেন প্রথম পক্ষের সন্তানরা। তাঁদের দাবি, তালাকপ্রাপ্ত হলেও শরীয়ত ও আইন অনুযায়ী তাঁরা বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ। কিন্তু বাবা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের প্ররোচনায় তাঁদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন।  

সম্পত্তি নিয়ে এই বিরোধের জেরে শনিবার সকাল ১১টা, দুপুর ২টা এবং রোববারও দুই দফায় নির্ধারিত জানাজার সময় পার হয়ে যায়। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা বারবার জানাজায় শরিক হতে এলেও দাফন নিয়ে জটিলতা দেখে ক্ষোভ ও আফসোস নিয়ে ফিরে যান। প্রথম পক্ষের দাবি ছিল, দাফনের আগেই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের দাবি ছিল, আগে দাফন সম্পন্ন হোক, পরে আইনিভাবে সব ফয়সালা হবে। এই অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় লাশ বাড়ির সামনে গাড়িতেই পড়ে থাকে।  

বিরোধপূর্ণ এই সম্পত্তি নিয়ে আগে থেকেই আদালতে মামলা চলছে বলে জানা গেছে। প্রথম পক্ষের অভিযোগ, দ্বিতীয় পক্ষের পুত্র ইমতিয়াজ তাঁদের প্রাপ্য জায়গায় ব্যাংক লোন নিয়েছেন। এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে খবর দেওয়া হয় প্রশাসনকে।  

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, বিষয়টি অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করে মাগরিবের নামাজের পর জানাজা ও লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বাবার মরদেহ দাফনে সন্তানদের বাধা

প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে সন্তানদের অনড় অবস্থানের কারণে চার দফায় জানাজার সময় পিছিয়ে এক হতভাগা বাবার মরদেহ দাফনে চরম বিঘ্ন ঘটেছে। দীর্ঘ প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে পড়ে থাকলেও মন গলেনি এক পক্ষের সন্তানদের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাটহাজারী পৌরসভার সেকান্দর মঞ্জিলে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফনের পথ প্রশস্ত হয়েছে।  

সরেজমিনে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেকান্দর মিয়া (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের দুটি সংসার রয়েছে। ৩২ বছর আগে তিনি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। প্রথম সংসারে তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে এবং দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সংসারের সন্তানরা দাফনের প্রস্তুতি নিলেও এতে বাধা প্রদান করেন প্রথম পক্ষের সন্তানরা। তাঁদের দাবি, তালাকপ্রাপ্ত হলেও শরীয়ত ও আইন অনুযায়ী তাঁরা বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ। কিন্তু বাবা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের প্ররোচনায় তাঁদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন।  

সম্পত্তি নিয়ে এই বিরোধের জেরে শনিবার সকাল ১১টা, দুপুর ২টা এবং রোববারও দুই দফায় নির্ধারিত জানাজার সময় পার হয়ে যায়। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা বারবার জানাজায় শরিক হতে এলেও দাফন নিয়ে জটিলতা দেখে ক্ষোভ ও আফসোস নিয়ে ফিরে যান। প্রথম পক্ষের দাবি ছিল, দাফনের আগেই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের দাবি ছিল, আগে দাফন সম্পন্ন হোক, পরে আইনিভাবে সব ফয়সালা হবে। এই অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় লাশ বাড়ির সামনে গাড়িতেই পড়ে থাকে।  

বিরোধপূর্ণ এই সম্পত্তি নিয়ে আগে থেকেই আদালতে মামলা চলছে বলে জানা গেছে। প্রথম পক্ষের অভিযোগ, দ্বিতীয় পক্ষের পুত্র ইমতিয়াজ তাঁদের প্রাপ্য জায়গায় ব্যাংক লোন নিয়েছেন। এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে খবর দেওয়া হয় প্রশাসনকে।  

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, বিষয়টি অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করে মাগরিবের নামাজের পর জানাজা ও লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ