নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বরে দলীয় নৃত্য ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, ফদাং তাং রান্দাল ও সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত অধিকার বাস্তবায়ন এবং ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয় অন্য কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি করে আসছেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির যেসব ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভুল রাজনীতি করে আসছে। এ অঞ্চলের মানুষের জনদাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে অনন্তকাল পরিস্থিতি চলতে পারে না।
আলোচনা সভা শেষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বরে দলীয় নৃত্য ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, ফদাং তাং রান্দাল ও সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত অধিকার বাস্তবায়ন এবং ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয় অন্য কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি করে আসছেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির যেসব ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভুল রাজনীতি করে আসছে। এ অঞ্চলের মানুষের জনদাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে অনন্তকাল পরিস্থিতি চলতে পারে না।
আলোচনা সভা শেষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন