প্রায় ২৬ বছর ধরে পৌরসভা হিসেবে কার্যক্রম চললেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য ফেলার জন্য তৈরি হয়নি স্থায়ী কোনো ভাগাড়। ফলে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। বর্তমানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডিবর্দী এলাকায় কুমার নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার গাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য এনে নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর মুকসুদপুর পৌরসভা প্রথমে ‘গ’ শ্রেণির ছিল। পরে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একসময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হতো। পরে গোপিনাথপুর আটাডাঙ্গা বাওড়ে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়। বর্তমানে টেংরাখোলা বাজারের চন্ডিবর্দী এলাকায় কুমার নদীর পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
টেংরাখোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঝড়-বাতাস শুরু হলে ময়লার স্তূপ থেকে আবর্জনা উড়ে পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্য পচে আরও তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে দোকানে বসে ব্যবসা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট চালাতে কষ্ট হচ্ছে। পথচারীদের অনেকেই কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করেন। পাশে স্কুল ও মসজিদ রয়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও স্থানীয়দের এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।”
টেংরাখোলা বাজারের ব্যবসায়ী হাসান মোল্যা বলেন, “গরু জবাইয়ের বর্জ্য, পচা ফল ও সবজিসহ নানা ধরনের ময়লা এখানে ফেলা হয়। বাতাস শুরু হলেই দুর্গন্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন বাজারে চলাচল করাই কঠিন হয়ে যায়।”
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেললে সেখান থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্জ্যের ওপর মাছি বসে পরে খাবারে গেলে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে শুধু মানুষ নয়, বিভিন্ন প্রাণীও আক্রান্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “খাস জমিতে ময়লা ফেলার ভাগাড় তৈরির জন্য চিঠি পেয়েছি। খাস জমি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে। এছাড়া পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বড় ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রায় ২৬ বছর ধরে পৌরসভা হিসেবে কার্যক্রম চললেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য ফেলার জন্য তৈরি হয়নি স্থায়ী কোনো ভাগাড়। ফলে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। বর্তমানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডিবর্দী এলাকায় কুমার নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার গাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য এনে নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর মুকসুদপুর পৌরসভা প্রথমে ‘গ’ শ্রেণির ছিল। পরে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একসময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হতো। পরে গোপিনাথপুর আটাডাঙ্গা বাওড়ে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়। বর্তমানে টেংরাখোলা বাজারের চন্ডিবর্দী এলাকায় কুমার নদীর পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
টেংরাখোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঝড়-বাতাস শুরু হলে ময়লার স্তূপ থেকে আবর্জনা উড়ে পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্য পচে আরও তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে দোকানে বসে ব্যবসা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট চালাতে কষ্ট হচ্ছে। পথচারীদের অনেকেই কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করেন। পাশে স্কুল ও মসজিদ রয়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও স্থানীয়দের এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।”
টেংরাখোলা বাজারের ব্যবসায়ী হাসান মোল্যা বলেন, “গরু জবাইয়ের বর্জ্য, পচা ফল ও সবজিসহ নানা ধরনের ময়লা এখানে ফেলা হয়। বাতাস শুরু হলেই দুর্গন্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন বাজারে চলাচল করাই কঠিন হয়ে যায়।”
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেললে সেখান থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্জ্যের ওপর মাছি বসে পরে খাবারে গেলে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে শুধু মানুষ নয়, বিভিন্ন প্রাণীও আক্রান্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “খাস জমিতে ময়লা ফেলার ভাগাড় তৈরির জন্য চিঠি পেয়েছি। খাস জমি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে। এছাড়া পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বড় ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন