ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জমির বিরোধে সড়কে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, আহত স্ত্রী-সন্তানসহ ৫


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

জমির বিরোধে সড়কে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, আহত স্ত্রী-সন্তানসহ ৫
ছবি: সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

নিহত মধু মিয়া তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সাফিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই সকালে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে এবং মধু মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার পরিবারের ১০ জন সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কে মধু মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

স্বামীকে বাঁচাতে চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে সড়কে ছুটে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন সাফিয়া। একই ঘটনায় মধু মিয়ার ছেলে শের আলী, ভাই আবু ছালাম ও কাশেম এবং কাশেমের ছেলে বিপ্লব আহত হন।

ঘটনার পর আহতদের মধ্যে চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু মিয়া ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ওই দিন বিকেলে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালাম বাদী হয়ে আব্দুল হাইকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ছয়জনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন জানান, সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে হাওরে থাকা ৫৫ শতক দুই ফসলি জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল হাইয়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ড করা পূর্বের মামলার এজাহারের সঙ্গে হত্যার ধারা সংযুক্ত করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয় : স্থানীয় সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জমির বিরোধে সড়কে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, আহত স্ত্রী-সন্তানসহ ৫

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

নিহত মধু মিয়া তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সাফিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই সকালে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে এবং মধু মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার পরিবারের ১০ জন সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কে মধু মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

স্বামীকে বাঁচাতে চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে সড়কে ছুটে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন সাফিয়া। একই ঘটনায় মধু মিয়ার ছেলে শের আলী, ভাই আবু ছালাম ও কাশেম এবং কাশেমের ছেলে বিপ্লব আহত হন।

ঘটনার পর আহতদের মধ্যে চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু মিয়া ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ওই দিন বিকেলে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালাম বাদী হয়ে আব্দুল হাইকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ছয়জনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন জানান, সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে হাওরে থাকা ৫৫ শতক দুই ফসলি জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল হাইয়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ড করা পূর্বের মামলার এজাহারের সঙ্গে হত্যার ধারা সংযুক্ত করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ