ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা

খেজুরের কাঁচা রস পান করার আগে সতর্ক হন


মাসুদ রানা :
মাসুদ রানা :
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

খেজুরের কাঁচা রস পান করার আগে সতর্ক হন

শীত মৌসুম এলেই গ্রামবাংলায় খেজুরের কাঁচা রস ও গুড়ের চাহিদা বাড়ে। ঐতিহ্যবাহী এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রতিবছরই ফিরে আসে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি—নিপাহ ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস হলো কাঁচা খেজুরের রস পান।

নিপাহ ভাইরাস কী

নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এর সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ছে। এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হলো ফলখেকো বাদুড় (প্টেরোপাস প্রজাতি), যাদের বিচরণ সাধারণত খেজুর গাছের আশপাশে বেশি দেখা যায়।

খেজুরের রস কেন ঝুঁকিপূর্ণ

শীতকালে খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাতে রস সংগ্রহ করা হয়। এ সময় বাদুড় গাছে এসে রস পান করে এবং অনেক ক্ষেত্রে হাঁড়ির ভেতরে লালা, মূত্র বা মল ত্যাগ করে। সেই দূষিত রস সকালে কাঁচা অবস্থায় পান করলে নিপাহ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত বহু রোগীর ক্ষেত্রেই কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস পাওয়া গেছে।


নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর ও তীব্র মাথাব্যথা দেখা গেলেও পরবর্তীতে বমি বা বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অচেতনতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীর মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) দেখা দেয়, যা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কখন ঝুঁকি বেশি

ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই শীত মৌসুমে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খোলা হাঁড়িতে সংগ্রহ করা কাঁচা খেজুরের রস পান করলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তবে ভালোভাবে জ্বাল দেওয়া খেজুরের রস বা গুড় সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ উচ্চ তাপে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়।

প্রতিরোধে করণীয়

নিপাহ ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এ জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকা, রস সংগ্রহের হাঁড়ির মুখে বাঁশের স্কার্ট বা জাল ব্যবহার করা, ভালোভাবে জ্বাল দেওয়া গুড় ব্যবহার করা এবং হঠাৎ জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সচেতনতার আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি। কাঁচা খেজুরের রস পরিহার করে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খেজুরের কাঁচা রস পান করার আগে সতর্ক হন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

শীত মৌসুম এলেই গ্রামবাংলায় খেজুরের কাঁচা রস ও গুড়ের চাহিদা বাড়ে। ঐতিহ্যবাহী এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রতিবছরই ফিরে আসে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি—নিপাহ ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস হলো কাঁচা খেজুরের রস পান।

নিপাহ ভাইরাস কী

নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এর সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ছে। এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হলো ফলখেকো বাদুড় (প্টেরোপাস প্রজাতি), যাদের বিচরণ সাধারণত খেজুর গাছের আশপাশে বেশি দেখা যায়।

খেজুরের রস কেন ঝুঁকিপূর্ণ

শীতকালে খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাতে রস সংগ্রহ করা হয়। এ সময় বাদুড় গাছে এসে রস পান করে এবং অনেক ক্ষেত্রে হাঁড়ির ভেতরে লালা, মূত্র বা মল ত্যাগ করে। সেই দূষিত রস সকালে কাঁচা অবস্থায় পান করলে নিপাহ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত বহু রোগীর ক্ষেত্রেই কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস পাওয়া গেছে।


নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর ও তীব্র মাথাব্যথা দেখা গেলেও পরবর্তীতে বমি বা বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অচেতনতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীর মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) দেখা দেয়, যা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কখন ঝুঁকি বেশি

ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই শীত মৌসুমে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খোলা হাঁড়িতে সংগ্রহ করা কাঁচা খেজুরের রস পান করলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তবে ভালোভাবে জ্বাল দেওয়া খেজুরের রস বা গুড় সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ উচ্চ তাপে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়।

প্রতিরোধে করণীয়

নিপাহ ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এ জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকা, রস সংগ্রহের হাঁড়ির মুখে বাঁশের স্কার্ট বা জাল ব্যবহার করা, ভালোভাবে জ্বাল দেওয়া গুড় ব্যবহার করা এবং হঠাৎ জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সচেতনতার আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি। কাঁচা খেজুরের রস পরিহার করে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ