ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ



এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ না করে একটি সিআর মামলার তদন্ত অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে ঘটনাস্থলে না গিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করিয়েছেন।

জানা গেছে, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯-এর সিআর মামলা নম্বর ১৯৮/২৬-এর বাদী জসিম উদ্দিন। মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও নালিশী দরখাস্ত পর্যালোচনার পর গত ২১ মে আদালত কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজে তদন্তে না গিয়ে ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম এবং জারীকারক কামাল উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে অধস্তন কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরেও আনা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্তে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "আমি নিজ উদ্যোগে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি প্রমাণসহ উপস্থাপন করতে হবে। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, তাহলে একজন নাগরিক হিসেবে আমারও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার সুযোগ আমাদের ছিল না। এরপরও অভিযোগকারীর অনুরোধে আমরা বিবাদীপক্ষের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমাদের দায়িত্ব ছিল বাদীপক্ষের সাক্ষ্য আদালতে পাঠানো, কিন্তু আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্যই সংযুক্ত করেছি।"

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইয়াছিন বলেন, "আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে তদন্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করতে পারেন।"

বিষয় : কবিরহাট এসিল্যান্ড সহকারী কমিশনার ভূমি বাংলাদেশ আইন সংবাদ জেলা প্রশাসক অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ না করে একটি সিআর মামলার তদন্ত অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে করিয়ে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে ঘটনাস্থলে না গিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করিয়েছেন।

জানা গেছে, নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯-এর সিআর মামলা নম্বর ১৯৮/২৬-এর বাদী জসিম উদ্দিন। মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও নালিশী দরখাস্ত পর্যালোচনার পর গত ২১ মে আদালত কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজে তদন্তে না গিয়ে ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম এবং জারীকারক কামাল উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে অধস্তন কর্মকর্তা ও জারীকারকের মাধ্যমে তদন্ত করানো আদালতের আদেশের পরিপন্থী। এ কারণে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরেও আনা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্তে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "আমি নিজ উদ্যোগে তদন্তে যাইনি। ম্যাডামের নির্দেশেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুইন। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি প্রমাণসহ উপস্থাপন করতে হবে। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, তাহলে একজন নাগরিক হিসেবে আমারও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "বিবাদীদের জবানবন্দি নেওয়ার সুযোগ আমাদের ছিল না। এরপরও অভিযোগকারীর অনুরোধে আমরা বিবাদীপক্ষের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমাদের দায়িত্ব ছিল বাদীপক্ষের সাক্ষ্য আদালতে পাঠানো, কিন্তু আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্যই সংযুক্ত করেছি।"

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইয়াছিন বলেন, "আদালত যদি কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে তদন্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করতে পারেন।"


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ