যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত প্রগতিশীল স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনীতিক আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে আল-সাইয়েদের জয়কে শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ, তার বিরুদ্ধে প্রচারণায় ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর জন্য বড় ধাক্কা। সংগঠনটি আল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন আল-সাইয়েদ। মিশিগানের এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক আল-সাইয়েদ বরাবরই এসব কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বিদেশে যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত।
এদিকে, কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা না চালানো নিরপেক্ষ সংগঠন আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের জয়কে "একটি বিরাট ঘটনা" বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-জাজিরাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নীতি বা জনকল্যাণের পরিবর্তে একজন আরব-আমেরিকান মুসলিম প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে মিশিগানের ভোটাররা সেই নেতিবাচক প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "আমি সারা দেশের মানুষকে জানাতে পেরে আনন্দিত যে মিশিগানের মানুষ এ ধরনের নোংরা রাজনীতি মেনে নেয়নি।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত প্রগতিশীল স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনীতিক আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে আল-সাইয়েদের জয়কে শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ, তার বিরুদ্ধে প্রচারণায় ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর জন্য বড় ধাক্কা। সংগঠনটি আল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন আল-সাইয়েদ। মিশিগানের এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক আল-সাইয়েদ বরাবরই এসব কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বিদেশে যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত।
এদিকে, কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা না চালানো নিরপেক্ষ সংগঠন আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের জয়কে "একটি বিরাট ঘটনা" বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-জাজিরাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নীতি বা জনকল্যাণের পরিবর্তে একজন আরব-আমেরিকান মুসলিম প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে মিশিগানের ভোটাররা সেই নেতিবাচক প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "আমি সারা দেশের মানুষকে জানাতে পেরে আনন্দিত যে মিশিগানের মানুষ এ ধরনের নোংরা রাজনীতি মেনে নেয়নি।"

আপনার মতামত লিখুন