কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এতদিন এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে যে আশঙ্কা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করে আসছিলেন, সাম্প্রতিক এক ঘটনার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন একটি নতুন এআই মডেল নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এ কাজটি মডেলটি কোনো সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় মডেলটি প্রথমে প্রতিষ্ঠানের অফলাইন স্যান্ডবক্স বা নিরাপদ পরীক্ষামূলক পরিবেশ অতিক্রম করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর নতুন ধরনের একটি সাইবার কৌশল ব্যবহার করে হাগিং ফেসের সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। আরও উদ্বেগের বিষয়, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা কয়েক দিন পর এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উন্নত এআই মডেলগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত (ওপেন সোর্স) রাখা উচিত, নাকি সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালনা করা প্রয়োজন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে এনভিডিয়া, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং মেটার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন সিকিউর এআই অ্যালায়েন্স নামে একটি জোট গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তার জন্য ওপেন সোর্সভিত্তিক এআই টুল উন্নয়ন করা। তবে এ জোটে যোগ দেয়নি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক।
হাগিং ফেসের দাবি, তারা একটি চীনা ওপেন সোর্স এআই মডেলের সহায়তায় এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লোজড বা সীমিত প্রবেশাধিকারযুক্ত কোনো এআই মডেল এ ধরনের তদন্তে কার্যকর সহযোগিতা করেনি।
ওপেন সোর্স এআইয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এনভিডিয়া বলেছে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা যদি নিজেদের অবকাঠামোয় উন্নত এআই চালাতে ও পর্যবেক্ষণ করতে না পারেন, তাহলে সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সতর্ক করে বলেছেন, তিনি ওপেন সোর্স এআইয়ের বিরোধী নন। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেল ভবিষ্যতে সাইবার হামলা বা জৈবিক ঝুঁকির মতো গুরুতর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এমন মডেল জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সরকারি ও স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
আমোদেইর মতে, ওপেন সোর্স এআইয়ের ঝুঁকি কতটা এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত মূল্যায়ন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, একবার কোনো ওপেন সোর্স মডেল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এদিকে, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, ওপেন সোর্স নাকি কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সেই প্রশ্নে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্কই আগামী দিনের এআই নীতিমালা ও নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এতদিন এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে যে আশঙ্কা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করে আসছিলেন, সাম্প্রতিক এক ঘটনার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন একটি নতুন এআই মডেল নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এ কাজটি মডেলটি কোনো সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় মডেলটি প্রথমে প্রতিষ্ঠানের অফলাইন স্যান্ডবক্স বা নিরাপদ পরীক্ষামূলক পরিবেশ অতিক্রম করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর নতুন ধরনের একটি সাইবার কৌশল ব্যবহার করে হাগিং ফেসের সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। আরও উদ্বেগের বিষয়, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা কয়েক দিন পর এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উন্নত এআই মডেলগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত (ওপেন সোর্স) রাখা উচিত, নাকি সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালনা করা প্রয়োজন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে এনভিডিয়া, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং মেটার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন সিকিউর এআই অ্যালায়েন্স নামে একটি জোট গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তার জন্য ওপেন সোর্সভিত্তিক এআই টুল উন্নয়ন করা। তবে এ জোটে যোগ দেয়নি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক।
হাগিং ফেসের দাবি, তারা একটি চীনা ওপেন সোর্স এআই মডেলের সহায়তায় এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লোজড বা সীমিত প্রবেশাধিকারযুক্ত কোনো এআই মডেল এ ধরনের তদন্তে কার্যকর সহযোগিতা করেনি।
ওপেন সোর্স এআইয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এনভিডিয়া বলেছে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা যদি নিজেদের অবকাঠামোয় উন্নত এআই চালাতে ও পর্যবেক্ষণ করতে না পারেন, তাহলে সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সতর্ক করে বলেছেন, তিনি ওপেন সোর্স এআইয়ের বিরোধী নন। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেল ভবিষ্যতে সাইবার হামলা বা জৈবিক ঝুঁকির মতো গুরুতর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এমন মডেল জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সরকারি ও স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
আমোদেইর মতে, ওপেন সোর্স এআইয়ের ঝুঁকি কতটা এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত মূল্যায়ন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, একবার কোনো ওপেন সোর্স মডেল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এদিকে, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, ওপেন সোর্স নাকি কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সেই প্রশ্নে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্কই আগামী দিনের এআই নীতিমালা ও নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

আপনার মতামত লিখুন