ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বন্ধ সীমান্ত বাণিজ্য আবারও সচল করতে চায় মিয়ানমার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬

বন্ধ সীমান্ত বাণিজ্য আবারও সচল করতে চায় মিয়ানমার
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় সোয়া এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বা অস্থায়ী ভিত্তিতেও বাণিজ্য শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে এ আগ্রহের কথা জানান। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরুতে সীমিত আকারে বাণিজ্য চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এরপর চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালেও স্বাভাবিক বাণিজ্য আর শুরু হয়নি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে রাখাইন থেকে কাঠ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপনে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বন্ধ সীমান্ত বাণিজ্য আবারও সচল করতে চায় মিয়ানমার

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রায় সোয়া এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বা অস্থায়ী ভিত্তিতেও বাণিজ্য শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে এ আগ্রহের কথা জানান। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরুতে সীমিত আকারে বাণিজ্য চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এরপর চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালেও স্বাভাবিক বাণিজ্য আর শুরু হয়নি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে রাখাইন থেকে কাঠ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপনে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ