সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নিজ কুরুয়া চতলিবন গ্রামে সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তার একটি অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে রাস্তা পরিমাপের পরও পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দয়ামীর ইউনিয়নের সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক থেকে নিজ কুরুয়া চতলিবন গ্রামে প্রবেশের সরকারি রাস্তার আব্দুল হক ও হাজী হিরণ মিয়ার বাড়ির পাশের প্রায় চার ফুট জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, সুরুজ আলী গেদা, আব্দুল ওদুদ, মতিন খাঁ ও শারজাহান মিয়াসহ স্থানীয়রা একাধিকবার আব্দুল হকের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.টি.এম. ফখর উদ্দিনের নজরে আনা হয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার ওপর নির্মিত সীমানা প্রাচীর অপসারণের অনুরোধ জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আব্দুর রউফ মেম্বারের স্ত্রী দিলারা বেগম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে রাস্তা পরিমাপের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসী, হাজী হিরণ মিয়াসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের উপস্থিতিতে রাস্তা পরিমাপ করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিমাপে সরকারি রাস্তার প্রায় চার ফুট জায়গা দখলে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
পরদিন গ্রামের পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত পাকা সীমানা প্রাচীরের প্রায় চার ফুট অংশ অপসারণ করেন মতিন খাঁ, শারজাহান মিয়া, ময়না মিয়া, কামাল মিয়া, সাবুল মিয়া, মাসুক মিয়াসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
এদিকে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সার্ভেয়ার ওমর ফারুককে জড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমির মালিকদের না জানিয়ে রাস্তা পরিমাপ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পরিমাপের সময় ভূমির মালিক হাজী হিরণ মিয়া এবং অভিযোগকারী মারুফ আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এরপরও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ আলী গেদা বলেন, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করতে আমরা বারবার চেষ্টা করেছি। সরকারি সার্ভেয়ারের পরিমাপের পরও এখন মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের ও গ্রামের মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করা হবে।
নিজ কুরুয়া গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আহমদ আলী বলেন, সরকারি সার্ভেয়ারের পরিমাপে হিরণ মিয়ার বাড়ির অংশে সরকারি জায়গা দখলে থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়। পরে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে ওই অংশ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা ইমাদ উদ্দিন লিলু বলেন, সরকারি সার্ভেয়ার যখন রাস্তার সীমা নির্ধারণ করেছেন, তখন জনগণের স্বার্থে সেই রাস্তা উন্মুক্ত রাখা উচিত। ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.টি.এম. ফখর উদ্দিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগকারী মারুফ আহমদ বলেন, সরকারি রাস্তার প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট। গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে তারা নিজেদের মালিকানাধীন জমি ছেড়ে ১৩ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করেছেন। কিন্তু বিদ্যমান রাস্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের সীমানার ভেতরে খুঁটি স্থাপন করায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নিজ কুরুয়া চতলিবন গ্রামে সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তার একটি অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে রাস্তা পরিমাপের পরও পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দয়ামীর ইউনিয়নের সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক থেকে নিজ কুরুয়া চতলিবন গ্রামে প্রবেশের সরকারি রাস্তার আব্দুল হক ও হাজী হিরণ মিয়ার বাড়ির পাশের প্রায় চার ফুট জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, সুরুজ আলী গেদা, আব্দুল ওদুদ, মতিন খাঁ ও শারজাহান মিয়াসহ স্থানীয়রা একাধিকবার আব্দুল হকের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.টি.এম. ফখর উদ্দিনের নজরে আনা হয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার ওপর নির্মিত সীমানা প্রাচীর অপসারণের অনুরোধ জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আব্দুর রউফ মেম্বারের স্ত্রী দিলারা বেগম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে রাস্তা পরিমাপের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসী, হাজী হিরণ মিয়াসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের উপস্থিতিতে রাস্তা পরিমাপ করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিমাপে সরকারি রাস্তার প্রায় চার ফুট জায়গা দখলে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
পরদিন গ্রামের পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত পাকা সীমানা প্রাচীরের প্রায় চার ফুট অংশ অপসারণ করেন মতিন খাঁ, শারজাহান মিয়া, ময়না মিয়া, কামাল মিয়া, সাবুল মিয়া, মাসুক মিয়াসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
এদিকে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সার্ভেয়ার ওমর ফারুককে জড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমির মালিকদের না জানিয়ে রাস্তা পরিমাপ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পরিমাপের সময় ভূমির মালিক হাজী হিরণ মিয়া এবং অভিযোগকারী মারুফ আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এরপরও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ আলী গেদা বলেন, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করতে আমরা বারবার চেষ্টা করেছি। সরকারি সার্ভেয়ারের পরিমাপের পরও এখন মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের ও গ্রামের মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করা হবে।
নিজ কুরুয়া গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আহমদ আলী বলেন, সরকারি সার্ভেয়ারের পরিমাপে হিরণ মিয়ার বাড়ির অংশে সরকারি জায়গা দখলে থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়। পরে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে ওই অংশ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা ইমাদ উদ্দিন লিলু বলেন, সরকারি সার্ভেয়ার যখন রাস্তার সীমা নির্ধারণ করেছেন, তখন জনগণের স্বার্থে সেই রাস্তা উন্মুক্ত রাখা উচিত। ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.টি.এম. ফখর উদ্দিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগকারী মারুফ আহমদ বলেন, সরকারি রাস্তার প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট। গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে তারা নিজেদের মালিকানাধীন জমি ছেড়ে ১৩ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করেছেন। কিন্তু বিদ্যমান রাস্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের সীমানার ভেতরে খুঁটি স্থাপন করায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন