ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বদলগাছী এলএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ



বদলগাছী এলএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার দাবি, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

মো. আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি চাল সংগ্রহের বিষয়ে খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকার কারণেই এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

তার ভাষ্য, প্রতি বছর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্থানীয় চালকল মালিকদের সঙ্গে সরকারি চুক্তি সম্পাদন করে। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই কোন মিল কত পরিমাণ চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করবে, তা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মিলার নির্বাচন বা চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

তিনি বলেন, "আমার দায়িত্ব কেবল জেলা কার্যালয়ের অনুমোদিত ও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত মানের চাল নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি।"

তিনি আরও বলেন, খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের পুরো কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো ও চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই একজন ওসি এলএসডির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পছন্দে চাল কেনার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি চালকল নিয়মিত উৎপাদনে নেই বা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্ট মিল মালিকরা।

শেখ চাউল কলের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, "আমাদের মিল সারা বছরই চালু থাকে। তবে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কিংবা শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু সময় উৎপাদন সীমিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এটিকে সরকারি চাল সরবরাহে অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।"

মিল মালিকদের দাবি, একটি চালকলের উৎপাদন ধান সংগ্রহ, শুকানো, পরিবহন, আবহাওয়া এবং শ্রমিকের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বাস্তব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব কারণে উৎপাদনে সাময়িক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক ঘটনা।

মো. আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি চাল সংগ্রহের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়ার সীমারেখা বিবেচনা না করেই কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "ভুল তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক সাংবাদিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বদলগাছী এলএসডিতে সরকারি চাল সংগ্রহ নিয়ে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে চুক্তিপত্র, মিলভিত্তিক বরাদ্দ, চাল গ্রহণের রেজিস্টার, গুণগত মান পরীক্ষার নথি এবং সরকারি সরবরাহসংক্রান্ত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগের সত্যতা যেমন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হলে তারও যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বদলগাছী এলএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার দাবি, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

মো. আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি চাল সংগ্রহের বিষয়ে খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকার কারণেই এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

তার ভাষ্য, প্রতি বছর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্থানীয় চালকল মালিকদের সঙ্গে সরকারি চুক্তি সম্পাদন করে। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই কোন মিল কত পরিমাণ চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করবে, তা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মিলার নির্বাচন বা চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

তিনি বলেন, "আমার দায়িত্ব কেবল জেলা কার্যালয়ের অনুমোদিত ও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত মানের চাল নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি।"

তিনি আরও বলেন, খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের পুরো কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো ও চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই একজন ওসি এলএসডির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পছন্দে চাল কেনার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি চালকল নিয়মিত উৎপাদনে নেই বা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্ট মিল মালিকরা।

শেখ চাউল কলের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, "আমাদের মিল সারা বছরই চালু থাকে। তবে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কিংবা শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু সময় উৎপাদন সীমিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এটিকে সরকারি চাল সরবরাহে অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।"

মিল মালিকদের দাবি, একটি চালকলের উৎপাদন ধান সংগ্রহ, শুকানো, পরিবহন, আবহাওয়া এবং শ্রমিকের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বাস্তব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব কারণে উৎপাদনে সাময়িক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক ঘটনা।

মো. আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি চাল সংগ্রহের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়ার সীমারেখা বিবেচনা না করেই কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "ভুল তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক সাংবাদিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বদলগাছী এলএসডিতে সরকারি চাল সংগ্রহ নিয়ে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে চুক্তিপত্র, মিলভিত্তিক বরাদ্দ, চাল গ্রহণের রেজিস্টার, গুণগত মান পরীক্ষার নথি এবং সরকারি সরবরাহসংক্রান্ত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগের সত্যতা যেমন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হলে তারও যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করা যাবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ