টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রাম থেকে কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামে যাওয়ার একমাত্র সংযোগপথ এখনো একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও বাস্তবে সেই দাবি পূরণ হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের অভাব না থাকলেও ভোট শেষে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ আর চোখে পড়ে না। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন জানান, মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের মাঝখানে থাকা ‘মরিচকুঁড়ি জোড়া’ খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। এই পথ ব্যবহার করলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে হলে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা।
তিনি বলেন, মানুষ কোনোভাবে হেঁটে পার হতে পারলেও মোটরসাইকেল, ভ্যান কিংবা কৃষিপণ্য বহনকারী যানবাহনের চলাচল প্রায় অসম্ভব। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় ধান, হলুদ, কচু, বেগুনসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতুর অভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি সময়, খরচ ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকো আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তখন শিশু, নারী ও বয়স্কদের পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতির আর কোনো বাস্তবতা থাকে না। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।
খলিলুর রহমান জানান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। এত দীর্ঘ সময়েও একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী পারভেজের অভিযোগ, সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় খালে পড়ে কাপড় ভিজে যায়, ফলে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানায় সে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রাম থেকে কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামে যাওয়ার একমাত্র সংযোগপথ এখনো একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও বাস্তবে সেই দাবি পূরণ হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের অভাব না থাকলেও ভোট শেষে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ আর চোখে পড়ে না। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন জানান, মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের মাঝখানে থাকা ‘মরিচকুঁড়ি জোড়া’ খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। এই পথ ব্যবহার করলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে হলে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা।
তিনি বলেন, মানুষ কোনোভাবে হেঁটে পার হতে পারলেও মোটরসাইকেল, ভ্যান কিংবা কৃষিপণ্য বহনকারী যানবাহনের চলাচল প্রায় অসম্ভব। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় ধান, হলুদ, কচু, বেগুনসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতুর অভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি সময়, খরচ ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকো আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তখন শিশু, নারী ও বয়স্কদের পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতির আর কোনো বাস্তবতা থাকে না। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।
খলিলুর রহমান জানান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। এত দীর্ঘ সময়েও একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী পারভেজের অভিযোগ, সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় খালে পড়ে কাপড় ভিজে যায়, ফলে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানায় সে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন